📌 কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা চালানো হয়। এমপি আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও পিএস মারুফ হোসেন (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মারুফ হোসেন (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত দু’জনকে আজ রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাহবুব উল আহসান উল্লাস নামের সাংবাদিক কুমারখালী পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
- 📌 আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও মারুফ হোসেন (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমিরুল ইসলাম হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা।
- 📌 মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
- 📌 সাংবাদিক উল্লাসের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ অনিয়ম চালাচ্ছেন।
- 📌 কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেছেন, আইনের আওতায় আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, না হলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
- 📌 কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, হত্যাচেষ্টা আইনে মামলা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
- 📌 মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, সাংবাদিকদের কারও প্রতিপক্ষ নন, তাদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না।
📰 বিস্তারিত
গতকাল শনিবার রাতে কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী এলাকা থেকে আমিরুল ইসলাম ও মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিক উল্লাসের অভিযোগে, পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে আমার ওপর হামলা চালানো হয়।’
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, ‘মামলার আসামিরা যতই ক্ষমতাশালী হোক, তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিকেরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা আইনে একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এদিকে, সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে। মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন। মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, ‘সাংবাদিকেরা কারও প্রতিপক্ষ নন। সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিকেরা কঠোর কর্মসূচি দেবেন।’
"নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে আমার ওপর হামলা চালানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুব উল আহসান উল্লাস, আমিরুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, আবু মনি জুবায়েদ রিপন, জামাল উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন আসামি, ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি, ৫৫ বছর আমিরুল ইসলামের বয়স, ৩৫ বছর মারুফ হোসেনের বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!