📌 কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধে যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে নন্দিরবাজার এলাকায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি বিরোধে আবু কাউছারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়, হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়
- 📌 হত্যাকাণ্ডে জড়িত তৌহিদুলের বাড়িতে শতাধিক লোক হামলা করে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে
- 📌 নিহত কাউছার কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৌহিদুল ইসলাম (তৌহিদ), যিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিরোধিতা করেছিলেন
- 📌 পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু কাউছারকে কুপিয়ে আহত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কাউছার কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত কাউছারের বন্ধু শামীম হোসেনের সঙ্গে নন্দিরবাজার এলাকার তৌহিদুল ও তানজিলের ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শামীমের দাবি, তিনি জমিটি কিনেছিলেন এবং জমি দখলে বাধা দেওয়া হচ্ছিল তাদের। এ নিয়ে বিরোধের কারণে শুক্রবার শামীমের দল জমিটি দেখতে যান, তখন তৌহিদুল নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কাউছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান (বিপ্লব) জানান, আবু কাউছার আগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছিল না। কাউছারের বড় ভাই কবির হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি। খলিলুর রহমানের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া তৌহিদুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন বলে দাবি করেন খলিলুর রহমান।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তৌহিদুল ও তাঁর পরিবার এলাকায় নেই। বাড়িতে থাকা নারীদেরও বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কাউছার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শতাধিক লোক নন্দিরবাজার এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা তৌহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। বাড়ির জানালার কাচসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে বাড়ির সামনে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়।
"বিকেলে একদল বিক্ষুব্ধ লোক নন্দিরবাজার এলাকার তৌহিদুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, নন্দিরবাজার ও ছত্রখিল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু কাউছার (৪৫), তৌহিদুল ইসলাম (তৌহিদ), শামীম হোসেন, খলিলুর রহমান (বিপ্লব), কবির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ (কাউছারের বয়স), ১২ (ঘটনার সময়), ৯ (রাত ৯টায় পুলিশের প্রতিক্রিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!