📌 কুমিল্লা সেনানিবাসের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আইনজীবী দাবি করেন, তদন্তে তার কোনো জড়িত থাকার প্রমাণ নেই এবং গ্রেফতার সম্ভবত তদন্ত চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। হাফিজুর ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন
কুমিল্লা সেনানিবাসের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেনের মতে, তদন্তের চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাফিজুরের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং তার ডিএনএ পরীক্ষায়ও তনুর হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাফিজুর রহমানকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার, তবে আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতার সম্ভবত তদন্ত চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে
- 📌 ৩ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিএনএ পরীক্ষায় হাফিজুরের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি
- 📌 ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের আলিপুর এলাকায় তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়
- 📌 ৭ আগস্ট হাফিজুর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন
- 📌 হাফিজুর ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অবসর নেন
📰 বিস্তারিত
সরাসরি তদন্তের চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে হাফিজুর রহমানের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন এই দাবি করেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ তনুর সঙ্গে হাফিজুরের ফোনে যোগাযোগের বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল তাকে বাসা থেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২৪ জুন আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তনুর মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে হাফিজুরের ডিএনএর কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুরকে জামিন দেন। পরে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ তার জামিন স্থগিত করেন। এর পরদিন ৭ আগস্ট তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগ দেন। প্রায় ৩২ বছর চাকরি করার পর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী বলেন, ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ স্ট্যাটিক সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাফিজুর। এ কারণে ১৩ মার্চ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তনুর সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ হয়। ১৮ মার্চ আবার যোগাযোগ করা হলে তনু তাকে জানান, তিনি নাট্যদলের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে রয়েছেন এবং অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না। এর দুই দিন পর, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের আলিপুর এলাকার পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই রাতে হাফিজুর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনেই ছিলেন।
"তনু হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এরপর তদন্তের চাপ কমাতে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সংবাদ সম্মেলন), কুমিল্লা সেনানিবাস, আলিপুর এলাকা (তনু হত্যা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন, তনু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৬ (হত্যা ঘটার বছর), ২০ (মার্চ), ৩ (দিনের রিমান্ড), ২১ (এপ্রিল), ২৪ (জুন), ৭ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!