📌 প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তার হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ৩০ মিনিট নির্যাতন করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশে টর্চার সেল পরিচালনা করতেন
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য নির্যাতন করা হয়েছিল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে এই নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা আন্দোলনের সময় তার ওপর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ৩০ মিনিটের জন্য নির্যাতন করা হয়েছিল।
- 📌 অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইশতিয়াক আহমেদ (পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার) সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশে টর্চার সেল পরিচালনা করতেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনার নিজস্ব অফিসটিকে তিনি টর্চার সেলে রূপান্তর করেছিলেন।
- 📌 রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা ইশতিয়াক আহমেদকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
- 📌 চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম রাশেদ খাঁনকে অবহিত করেছেন যে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
- 📌 রাশেদ খাঁন বলেছেন, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলও ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগের বিষয়ে উপস্থিত ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে সাংবাদিকদের সামনে রাশেদ খাঁন বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। তাকে ভাষানটেক থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকার পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ তার ওপর নির্যাতন চালান। তিনি বলেন, তার হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ৩০ মিনিটের জন্য নির্যাতন করা হয়েছিল যাতে তিনি কথা বলতে না পারেন।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। তার ওপর ১৫ দিনের রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ইশতিয়াক আহমেদ শেখ হাসিনার নির্দেশে এই নির্যাতন চালিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইশতিয়াক আহমেদের পিতা বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার শেখ হাসিনার নিকটস্থ ব্যক্তি ছিলেন। জমাদারকে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তারা অভিযোগের তদন্ত করেছেন এবং রাশেদ খাঁনকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ন্যায়বিচার হবে।
"আমি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম, তিনি এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ। ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। সেই সময় আমাকে ভাষানটেক থেকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আমাকে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ আমাকে নির্যাতন শুরু করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সাইবার ক্রাইম ইউনিট, মিন্টো রোড ডিবি কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদ খাঁন, ইশতিয়াক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, শেখ হাসিনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ মিনিট (নির্যাতনের সময়), ১৫ দিন (রিমান্ড), ১৬ সেপ্টেম্বর (সাক্ষাৎকারের তারিখ), ২০১৮ (কোটা আন্দোলনের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!