📌 জয়পুরহাটের কালাই থানায় কিডনি বিক্রির মামলায় আসামিরা জামিন পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। ১৫ বছরে ১৭টি মামলা হলেও বিচার শেষ হয়নি কোনো একটি। দালালরা ভুক্তভোগীদের প্রতারিত করে কিডনি বিক্রি করে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না
জয়পুরহাটের কালাই থানায় কিডনি বিক্রির চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও বিচার শেষ হয়নি কোনো একটি। দালালরা ভুক্তভোগীদের প্রতারিত করে কিডনি বিক্রি করে, কিন্তু আসামিরা জামিন পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। গোবিন্দগঞ্জের দিনমজুর মন্টু মিয়া কিডনি বিক্রির শিকার হয়ে পড়েন এবং তার মামলায় আসামিরা জামিন পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোবিন্দগঞ্জের দিনমজুর মন্টু মিয়া ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রি করে দালালদের প্রতারিত হন, কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়
- 📌 ২০১১ সাল থেকে কালাই থানায় কিডনি বিক্রির ১৭টি মামলা হলেও বিচার শেষ হয়নি কোনো একটি, আসামিরা জামিন পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন
- 📌 জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেছেন, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোগ ও প্রতারণা আইনে মামলায় কিডনি বেচাকেনার চক্রের দালাল ও প্রতারকদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে
- 📌 কালাইয়ের তিন গ্রামে ৩১ জনের মধ্যে ২৭ জনের কিডনি বিক্রির কথা জানা গেছে, এর মধ্যে ১১ জন নয়াপাড়া গ্রামের এবং ১৪ জন পাইকপাড়া গ্রামের
- 📌 ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কালাই থানায় ১১টি মামলা দায়ের করা হলেও কোনো মামলার বিচার শেষ হয়নি
📰 বিস্তারিত
গোবিন্দগঞ্জের খুকশিয়া গ্রামের দিনমজুর মন্টু মিয়া ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রির শিকার হন। দালালরা তাকে ঢাকায় নিয়ে পাসপোর্ট করান এবং নেপালে নিয়ে কিডনি অপসারণের অস্ত্রোপচার করে। বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা না দেওয়ায় মন্টুকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনায় মন্টু আদালতে মামলা করেন। পরে ১৩ জুন আদালতের নির্দেশে জয়পুরহাটের কালাই থানা-পুলিশ মামলা নেয়। মামলায় কালাইয়ের পাইকপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, বহুতি গ্রামের আবদুস সাত্তারসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
গত ১২ আগস্ট সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে ২৯ জুলাই তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তিনি একসময় কিডনির দালালি করতেন। এখন দালালি করেন না, কিন্তু একটি চক্র মামলাবাণিজ্য করতে তাঁকে ফাঁসিয়েছে। ২০১১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘২০০ অভাবীর কিডনি বিক্রি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। বছর দুয়েক কিডনি বেচাকেনার কথা তেমন আলোচনায়ও ছিল না, কিন্তু আবার শুরু হয়।
ভুক্তভোগী মন্টু মিয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন। অযথা কাউকে আসামি করা হয়নি। কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনার ঘটনা নিয়ে গত ১৫ বছরে ১৭টি মামলার নথি পাওয়া গেছে। এসব মামলায় কেউ কেউ চুক্তি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে; আবার কেউ প্রতারিত হয়ে মামলা করেছেন।
"আমি এখানে যোগদানের পর মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোগ ও প্রতারণা আইনে একটি মামলা হয়েছে। কিডনি বেচাকেনার চক্রের দালাল ও প্রতারকদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেছেন, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোগ ও প্রতারণা আইনে মামলায় কিডনি বেচাকেনার চক্রের দালাল ও প্রতারকদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। তিনি আরও বলেছেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়পুরহাটের কালাই থানা, গোবিন্দগঞ্জের খুকশিয়া গ্রাম, নয়াপাড়া ও পাইকপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মন্টু মিয়া, আবদুল মান্নান, সাইদুর রহমান, আবদুস সাত্তার, শাহনাজ বেগম (পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা, ৯ লাখ টাকা, ১৩ জুন, ১২ আগস্ট, ২৯ জুলাই, ২০০ অভাবী, ১৫ বছর, ১৭টি মামলা, ৩১ জনের মধ্যে ২৭ জন কিডনি বিক্রি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!