📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেছেন, কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দ্রুতগতিতে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগীয় সদরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আধুনিক সাইবার অপরাধ, প্রতারণা এবং স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো জটিল অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ল্যাবগুলো অপরিহার্য। বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮টি বিভাগে** দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
- 📌 **চট্টগ্রামে** সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় **কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা** ছিল
- 📌 **১ অক্টোবর** থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে **পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম** শুরু হয়েছে
- 📌 **সিআইডি** পরিচালিত এই ল্যাবের সাথে **জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে** ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে
- 📌 **সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে** সরকার **আধুনিক যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস** সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে
- 📌 **অপরাধীদের হামলায় পুলিশের শিকার হওয়া** নতুন বিষয় নয়, সরকার **আইনি ব্যবস্থা** নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, প্রতারণা এবং স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার **৮টি বিভাগীয় সদরে** দ্রুত এই ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় **কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা)** সহযোগিতা করেছে।’ তিনি কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং কোইকার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার **১ অক্টোবর** থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে **পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম** শুরু করেছে। উদ্বোধিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি **সিআইডির নেতৃত্বে** পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে **সকল ইউনিটের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা** অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, **ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি** কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল অ্যানালাইসিসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে **জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি** স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, **কোরিয়া সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে**।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই **কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা** করে আসছে। ভিসেরা রিপোর্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, **বিচারিক কার্যক্রমে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে** প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর সার্টিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, **অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতায় সমৃদ্ধ** করতে হবে। তিনি জানান, **আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে** সরকার **ল্যাবরেটরি সুবিধা, লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতি** সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, **দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে**, তবে তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেন, **সকল বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে**।
অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ মাঝে মধ্যে অপরাধীদের হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি পুলিশকে আসামি গ্রেফতারে বাধা দিলে বা আসামিকে সহায়তা করলে **সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে** তার বিরুদ্ধেও **আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে**। পুলিশ তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
মন্ত্রী জানান, **এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এর মতো কোনো পরিকল্পনা** সরকারের নেই। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির, অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনে সহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
"চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সহযোগিতা করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, দামপাড়া পুলিশ লাইন্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি বিভাগে ল্যাব স্থাপন; ১৪ অক্টোবর উদ্বোধন; ১ অক্টোবর সাইবার ইউনিট কার্যক্রম শুরু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!