📌 পটুয়াখালীর হোটেল মালিক আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০) পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল মাদারীপুরের বেদেপল্লি থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
পাওনা টাকার বাঁচতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকা পটুয়াখালীর হোটেল মালিক আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০) গতকাল মাদারীপুরের কালকিনি এলাকার বেদেপল্লি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকার সময় বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালীর হোটেল মালিক আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০) নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে ছিলেন
- 📌 পাওনা টাকার বাঁচতে ২০২২ সালে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান
- 📌 পুলিশের তথ্য: পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন
- 📌 উদ্ধারের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
- 📌 মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের হয়রানি করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ গ্রামের প্যাদা বাড়ির জয়নাল আবেদীন প্যাদার ছেলে আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০) বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন। ওই হোটেলে দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা খেতেন। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে খাবারের বিল বাবদ তাঁর প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদারের পরামর্শে তিনি নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান।
২০২২ সালের ১৪ আগস্ট পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আবদুল মান্নান পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন। কখনো মাজারে, কখনো দারোয়ানের কাজ করে এবং বিভিন্ন বেদেপল্লিতে ছদ্মবেশে থাকতেন তিনি। সর্বশেষ বাগেরহাটের একটি মাজারে কাজল নামে এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই নারীর বরিশালের বাসায় যান এবং সেখান থেকে ওই নারীর ভগ্নিপতির মাদারীপুরের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও আবদুল মান্নান তাঁর ছেলে মো. জসিম প্যাদার এর মাধ্যমে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি চালিয়ে যান। ফলে ওই মামলায় আসামিদের হয়রানি করা হয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার রাত একটার দিকে কালকিনি এলাকার বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে আবদুল মান্নান প্যাদাকে উদ্ধার করা হয়।
"দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।"
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেছেন, উদ্ধারের পর আবদুল মান্নানকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। অপহরণ মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানেজার নুর আলম সিকদারসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালী সদর উপজেলা, মাদারীপুরের কালকিনি বেদেপল্লি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল মান্নান প্যাদার (৭০), মো. জসিম প্যাদার, মো. নুর আলম সিকদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৪ বছর, ৭০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!