📌 সিআইডি তদন্তে প্রকাশ পায় বিসিএস, পিএসসি ও রেলওয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরির বিস্তৃত জালিয়াতি। গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামের নেতৃত্বে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২৬ জন গ্রেপ্তার। প্রশ্নপত্র চুরির এক ঘটনায় কর্মকর্তার চেম্বারে বসে ফটোকপি করা হয় এবং ৭৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়
বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বিশাল জালিয়াতির খুলি উন্মোচিত হয়েছে। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, বিসিএস, পিএসসি ও রেলওয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি করে বিক্রি এবং চাকরি পেতে টাকা নেওয়ার একটি জালিয়াতির শিকড় গভীর। এই জালিয়াতিতে জড়িত ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ জন গ্রেপ্তার এবং ২৯ জন পলাতক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র: সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহার নেতৃত্বে তদন্ত শেষে ১৮ মে আদালতে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আলাদা মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত চলছে।
- 📌 ২৬ জন গ্রেপ্তার, ২৯ জন পলাতক: ২৬ জন আসামির মধ্যে একজন কারাগারে বন্দি, আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামসহ বাকি ২৫ জন জামিনে আছেন। বাকি ২৯ জন পলাতক।
- 📌 প্রশ্নপত্র চুরির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক: হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় দেখা যায়, বিসিএস, পিএসসি ও রেলওয়ে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি জালিয়াতির তথ্য।
- 📌 কর্মকর্তার চেম্বারে ফটোকপি: পিএসসির কর্মচারী মো. সাজেদুল ইসলাম প্রশ্নপত্র চুরির মূল ঘটনায় জড়িত। তিনি কর্মকর্তা গোলাম ফারুকের অনুপস্থিতিতে তার চেম্বারে ঢুকে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করেন।
- 📌 ৭৫ লাখ টাকা নেওয়া: রেলওয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরির বিনিময়ে সাজেদুল একাই ৭৫ লাখ টাকা নেন।
- 📌 চাকরি বিক্রির জালিয়াতি: ৪৬তম বিসিএসের প্রার্থীদের মধ্যে ১৭ জনকে চাকরি দিতে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়, যার মধ্যে ১৩ জন পাস করেন।
📰 বিস্তারিত
সিআইডির তদন্তে প্রকাশ পায়, গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের নেতৃত্বে একটি জালিয়াতির নেটওয়ার্ক। এই চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির ব্যবস্থা করতেন। একটি বার্তায় বলা হয়, ‘৫ তারিখের কাজ ১০০% কনফার্ম’ এবং ‘আগামী ২১ তারিখের মধ্যে সব টাকা ক্লিয়ার করতে হবে’। অন্য বার্তায় নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘রিটেন পাস করতে চাইলে ৭ লাখ লাগবে’।
তদন্তে দেখা যায়, পিএসসির কর্মচারী মো. সাজেদুল ইসলাম প্রশ্নপত্র চুরির মূল ঘটনায় জড়িত। তিনি কর্মকর্তা গোলাম ফারুকের অনুপস্থিতিতে তার চেম্বারে ঢুকেন এবং হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র চুরি করেন। চুরি করা প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে নেওয়ার পর মূল প্রশ্নপত্রগুলো হুবহু ট্রাংকে রেখে পুনরায় তালাবদ্ধ করেন। এই প্রশ্নপত্রগুলো বিভিন্ন কম্পিউটার দোকানে কম্পোজ করে রমনা পার্কের গেটের সামনে সৈয়দ আবেদ আলীর হাতে তুলে দেন।
সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাজেদুল ও খলিলুর রহমান মিলে আবু সোলেমান মো. সোহেলকে ১৭ জন প্রার্থী দেন, যাঁদের মধ্যে ১৩ জন পাস করেন। এই ঘটনায় সাজেদুল ১৬ লাখ টাকা নেন। পলিটেকনিকের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগ পরীক্ষায়ও এই জালিয়াতির ছাপ পাওয়া যায়।
"আমি ক্লিয়ারেন্স না দেওয়া পর্যন্ত কিছু করবেন না...অন্য গ্রুপের কী খবর? ১২ জনের গ্রুপের কি খবর আছে?"
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আদালতে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যার মধ্যে একজন কারাগারে বন্দি। আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামসহ বাকি ২৫ জন জামিনে আছেন। বাকি ২৯ জন পলাতক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে সিআইডি। তবে মো. গোলাম হামিদুর রহমান, হামিদুল ইসলাম জিয়া, মো. মাহাবুব আলম ও আজাদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (পিএসসি, রেলওয়ে পরীক্ষা, পল্টন থানা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমন কুমার সাহা (সিআইডি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার), সৈয়দ আবেদ আলী, সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, মো. সাজেদুল ইসলাম, গোলাম ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ জন অভিযুক্ত, ২৬ জন গ্রেপ্তার, ২৯ জন পলাতক, ৭৫ লাখ টাকা, ১৬ লাখ টাকা, ১৩ জন পাস, ১৭ জন প্রার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!