📌 সচিব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেনকে জমি কেনার প্রলোভন দিয়ে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে তিনজন। প্রতারকদের মধ্যে একজন সচিবের ভেষজে কাজ করছিলেন বলে দাবি করতেন
সচিবের ভেষজে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে প্রতারিত করে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। আজ শনিবার রাজধানীর পিবিআই ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেনকে জমি কেনার প্রলোভন দিয়ে প্রতারিত করে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
- 📌 গ্রেপ্তার তিনজন: সচিব পরিচয় দেওয়া মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), কথিত জমির মালিক সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং জমির দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)।
- 📌 প্রতারণার পদ্ধতি: প্রতারকরা ফারুক হোসেনকে সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কেনার প্রস্তাব দেন এবং ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার জমির বিনিময়ে ১ কোটি টাকা লাভের প্রলোভন দেখান।
- 📌 অভিযোগ ও তদন্ত: প্রতারণার শিকার হয়ে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
জমি কেনার কথা বলে সচিব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯)কে প্রতারিত করার অভিযোগে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। দারুস সালাম এলাকায় বসবাসকারী ফারুক হোসেন জমির শেয়ার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে জমির দালাল সাইফুল ওরফে শাহীন (৫২) তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন। সাইফুল নিজেকে একজন সচিবের ভেষজে পরিচয় দেন এবং ফারুক হোসেনকে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে সচিবের ভেষজে একজন ব্যক্তি আসেন এবং জমি কেনার প্রস্তাব দেন।
প্রতারকরা ফারুক হোসেনকে সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কেনার প্রস্তাব দেন। জমিটির দাম প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়। প্রতারকরা ফারুক হোসেনকে বলেন, সচিবের মাধ্যমে জমি কিনলে পরে তা বিক্রি করে ১ কোটি টাকা লাভ হবে। ফারুক হোসেনের বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা তাঁর সামনে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করেন। পরে জমির বায়না হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ফারুক হোসেন ব্যাংক ও বাসা থেকে মোট ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দেন। এরপর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার কথা বলে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে বায়নাপত্রের মূল কপি দেওয়ার কথা বলে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ফারুক হোসেন একপর্যায়ে ওই টাকাও দেন। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার পর প্রতারকরা বায়নাপত্র না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার অংশ হিসেবে চক্রটি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। কখনো সচিবের অফিসে যাওয়ার কথা বলা হতো, আবার কখনো ভাড়া বাসায়। এমনকি কথিত জমির মালিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমন গল্পও সাজানো হয়। প্রতারণার শিকার হয়ে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্তে প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
"প্রতারণার অংশ হিসেবে চক্রটি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। কখনো সচিবের অফিসে যাওয়ার কথা বলা হতো, আবার কখনো ভাড়া বাসায়। এমনকি কথিত জমির মালিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমন গল্পও সাজানো হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (পিবিআই ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়, ধানমন্ডি, সাভারের বিলামালিয়া মৌজা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯), অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, সচিব পরিচয় দেওয়া মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯), মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ টাকা (আত্মসাৎ), ৪৮ বছর (শাহাবুদ্দিন), ৩৯ বছর (জাহাঙ্গীর আলম), ৫২ বছর (সাইফুল), ৪৯ বছর (ফারুক হোসেন), ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫৮ শতাংশ জমি, ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা (জমির মূল্য), ১০ লাখ টাকা (বায়না হিসেবে দাবি), ২০ লাখ টাকা (বায়নাপত্রের মূল কপি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!