📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক কারবারি জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ডিএনসি তাদের সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেছে এবং মামলায় অভিযোগপত্র দিতে চলেছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক কারবারি জুয়েল রানা (৩৪) এবং তার স্ত্রী সালমা জাহান (৩০) তাদের মাদক ব্যবসার অর্থের অদূর ভবিষ্যতে জব্দের ঝুঁকিতে পড়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) তাদের নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবে গত আট বছরে ১৩ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ২৮৭ টাকার লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করেছে। এছাড়াও তাদের নামে জমি, বাড়ি এবং রাজশাহী ও ঢাকায় অবস্থিত সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক সিন্ডিকেটের নেতা জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 জুয়েলের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাবে ৯ বছরে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১২টি হিসাবে ৮ বছরে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
- 📌 জুয়েলের নামে দুটি বাড়ি, ছয়টি জমি এবং রাজশাহীর পেট্রলপাম্পসহ ঢাকায় দুটি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 জুয়েলের মাদক কারবারের অর্থের বৈধ উৎস না পাওয়া গেলে তার ও স্ত্রীর সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেছে ডিএনসি।
- 📌 জুয়েলের বিরুদ্ধে ৯টি মাদক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন।
- 📌 সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের প্রভাবে জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন জুয়েল।
📰 বিস্তারিত
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে ২৪টি ব্যাংক হিসাবে গত আট বছরে ১৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। জুয়েলের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে চারটি চলতি হিসাব, তিনটি মোবাইল ব্যাংকিং এবং পাঁচটি সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। এদের মধ্যে ৯ বছরে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রী সালমা জাহানের ১২টি ব্যাংক হিসাবে ৮ বছরে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে জুয়েলের নামে দুটি বাড়ি এবং ছয়টি জমির তথ্য পাওয়া গেছে। দলিলমূল্যে এসব সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৩ লাখ টাকা, তবে বর্তমান বাজারে এগুলোর মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। এছাড়াও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি পেট্রলপাম্প এবং ঢাকায় দুটি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
জুয়েলের নামে একটি আয়কর ফাইল থাকলেও ব্যাংক হিসাবগুলোতে এত অর্থের লেনদেনের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান (রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক) জানিয়েছেন, জুয়েলের সম্পদের বড় অংশই হেরোইন কারবারের অর্থে গড়ে উঠেছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে লেনদেন এবং জমি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
জুয়েল রানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ফাটাপাড়া মালবাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে মাদক কারবারে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। জুয়েলের বিরুদ্ধে ৯টি মাদক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়, দুটি মিরপুর ও পল্টন থানায় এবং দুটি নাটোর সদর থানায়।
২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯৫০ গ্রাম হেরোইন ও ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএনসি। জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের প্রভাবে জামিন পেয়েছিলেন জুয়েল। কারাগার থেকে বেরিয়ে ওদুদের বাসায় গিয়ে তিনি তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছিলেন।
"জুয়েলের সম্পদের বড় অংশই হেরোইন কারবারের অর্থে গড়ে উঠেছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে লেনদেন এবং জমি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঢাকা, গোদাগাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জুয়েল রানা, সালমা জাহান, আব্দুল ওদুদের, মো. মেহেদী হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ২৮৭ টাকা (লেনদেন), ২৪টি ব্যাংক হিসাব, ৯টি মাদক মামলা, ৩৪ বছর (জুয়েলের বয়স), ৩০ বছর (সালমা জাহানের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!