📌 প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন নিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের উদ্বেগ প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে আইনটি নিপীড়নমূলক হবে না এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আইনের খসড়া সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে আইনটি কোনোভাবেই মিডিয়ার ওপর নিপীড়নমূলক হবে না। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আইনে ‘সেভিং ক্লজ’ রাখা হয়েছে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রেপ্তার বা আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া হবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে আইন সংশোধিত হবে।
- 📌 ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ গ্রহণের পর সংশোধিত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
- 📌 গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইনে ‘সেভিং ক্লজ’ রাখা হয়েছে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- 📌 মোবাইল কোর্টের বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।
- 📌 মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, সংশোধনী ছাড়া আইন পাস হলে বাংলাদেশ ‘বৃহৎ কারাগারে’ পরিণত হবে।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ খসড়া পর্যালোচনার পর গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কনসালটেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনটি কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হবে না এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের খসড়া ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা আইটি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই দ্বিতীয় বৈঠকে ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা খসড়াটিতে আরও সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে, গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তারা। মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি, সংশোধনী ছাড়া যদি এ আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’ ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনের খসড়া দেখে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইনে ব্যবহৃত কিছু শব্দের সংজ্ঞা না থাকায় বিভিন্নভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অ্যাটকো মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও পছন্দ না হলে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি মোবাইল কোর্টের বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।
"আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহফুজ আনাম, আব্দুস সালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ দিন, ১০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!