📌 টিআইবি সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়ায় বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক ঝুঁকি দেখিয়ে সতর্ক করেছে। আইনে সাইবার অপরাধ, সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে একই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক উত্তম চর্চার বিপরীত
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়ায় মৌলিক মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, আইনে সাইবার অপরাধ, সুরক্ষা ও জনগণের মতপ্রকাশের অধিকারকে একই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক উত্তম চর্চার বিপরীত এবং অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি: সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় গুজব, অপতথ্য, রাষ্ট্রদ্বেষী বিষয়াদি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।
- 📌 সাইবার অপরাধ ও সুরক্ষার একাকারকরণ: আইনে সাইবার অপরাধ ও সুরক্ষাকে একই ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থী এবং সাইবার জগতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- 📌 সুরক্ষা কাউন্সিলের জবাবদিহিহীনতা: প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে বেসরকারি পর্যায়ের মাত্র দুইজন বিশেষজ্ঞের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে, যারা সরকারকর্তৃক মনোনীত হবে। ফলে কাউন্সিল সরকারের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন অবস্থায় থাকবে।
- 📌 অপব্যবহারের সুযোগ: ধারা-৪৬(২) ও ধারা-২৩-এর অজস্র ব্যাখ্যার ঘাটতি ও প্রায়োগিক প্রভাব ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক হওয়ার কারণে বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
- 📌 স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাউন্সিল গঠনের দাবি: টিআইবি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে এবং আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির বিধানকে আইনের দৃষ্টিতে সমানতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের পাঠানো বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, খসড়া আইনে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার সম্পর্কিত তিনটি জটিল বিষয়কে একটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু কোনোটিতেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘যৌনহয়রানি’’ ও ‘‘সেক্সটর্শন’’ ইত্যাদি শব্দবন্ধকে অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে অভিযুক্তের সুরক্ষা আর ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’’ এবং ‘‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’’ ইত্যাদি বিষয়াবলির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি রয়েছে, যা ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক হওয়ার কারণে অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত ও বাকস্বাধীনতাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলবে।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘সরল বিশ্বাসে’’ তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তির বিধান ‘‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’’ এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, খসড়া আইন অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস একটি অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন ও নিপীড়নমূলক ভূবনে পরিণত হবে, যেখানে জনগণের অভিগম্যতা সরকারের মর্জিমাফিক নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভিন্নমত দমনসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিকতায় পরিণত হবে।
"খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস একটি অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন, নিপীড়নমূলক ভূবনে পরিণত হবে, যেখানে জনগণের অভিগম্যতা সরকারের মর্জিমাফিক নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভিন্নমত দমনসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিকতায় পরিণত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ড. ইফতেখারুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সেপ্টেম্বর, ২৮ সদস্যের কাউন্সিল, ধারা-৪৬(২), ধারা-২৩, ২ জন বেসরকারি বিশেষজ্ঞ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!