📌 চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনের ঘটনায় যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ জীবনকে হত্যা করা হয়। নগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জুয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনের ঘটনায় যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবনকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় নগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স টিম (এসআরবি)। এসআরবির মুখপাত্র সহকারী পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ রোববার (২ নভেম্বর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনের ঘটনায় যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ জীবনকে হত্যা করা হয়
- 📌 নগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি
- 📌 ঘটনায় জুয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জীবনের রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনের প্রতিবাদে হামলা চালিয়েছেন
- 📌 ২৭ অক্টোবর রাতে জীবনকে ছুরিকাঘাত ও পায়ে গুলি করা হয়, পরবর্তীতে তিনি মারা যান
- 📌 ঘটনায় জুয়েলের সহযোগী ইকরাম বাবু ও আরমানকে অভিযোগ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এসআরবি বিশেষ অভিযান চালিয়ে জিল্লুর রহমান জুয়েল এবং তাঁর সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় চান্দগাঁও ক্যাম্পে বিস্তারিত ব্রিফিং করবেন এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
২৭ অক্টোবর রাতে বায়েজিদের কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে আবু ইউসুফ জীবনকে ছুরিকাঘাত ও পায়ে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এর দুই দিন পর, ২৯ অক্টোবর সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের মৃত্যু হয়।
জীবনের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন এবং তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে জীবনের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে জুয়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হামলার পর মুমূর্ষু অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেন, ইকরাম বাবু ও আরমান তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করেছেন। এই সময় তাঁর দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার সময় জীবনসহ চার-পাঁচজন কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত ইকরাম বাবু, আরমান, মেহেদী ও নাবিদসহ ১৩ থেকে ১৪ জন সেখানে গিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীদের হাতে ছিল ছুরি ও পিস্তল এবং তাঁদের কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
দলীয় সূত্রের দাবি, দুই বছর ধরে জুয়েলের অনুসারী হিসেবে জীবন বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। কিন্তু তিনি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে যুক্ত হন। এ নিয়ে জুয়েলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি সূত্রগুলোর। জীবনের মা মোছাম্মৎ শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য তাঁর ছেলেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু জীবন রাজনীতি কিংবা চাঁদাবাজিতে জড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
"জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য তাঁর ছেলেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু ইউসুফ জীবন (নিহত), জিল্লুর রহমান জুয়েল (গ্রেপ্তার), মো. আরমান (গ্রেপ্তার), ইকরাম বাবু, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (হত্যার তারিখ), ২৯ অক্টোবর (মৃত্যু), ২ নভেম্বর (গ্রেপ্তার), ১৩-১৪ জন (হামলাকারী), ২ (গ্রেপ্তারকৃত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!