📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে পাঁচ পরিবারের সদস্যকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মানিক মিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে মোতাহার মিয়া, মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। এছাড়াও প্রত্যেকের উপর এক লাখ টাকা জরিমানা আর অনাদায়ে এক বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা হত্যা মামলায় মোতাহার মিয়া, মনির মিয়া ও কামাল মিয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন
- 📌 প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্তের উপর এক লাখ টাকা জরিমানা আর অনাদায়ে এক বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের রায়
- 📌 মামলায় ১১ জনের মধ্যে ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, বাকি ২ জন অব্যাহতি পেয়েছিলেন
- 📌 খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিন ও মনির মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগমসহ পাঁচ পরিবারের সদস্য
- 📌 হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে, মানিক মিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত ঘোষিত হন
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে বিচার চলার পর আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, মোতাহার মিয়া, মনির মিয়া ও কামাল মিয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। এছাড়াও প্রত্যেকের উপর এক লাখ টাকা জরিমানা আর অনাদায়ে এক বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের রায় দেন বিচারক অসীম কুমার দে।
মামলায় অভিযোগ ছিল, মানিক মিয়া ও মনির মিয়ার পরিবারের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকা-পয়সার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর মনিরসহ তার পরিবারের সদস্যরা মানিকের ওপর হামলা চালায়। মানিক মিয়াকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি মৃত ঘোষিত হন।
মামলায় বাদী ছিলেন মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ১১ জনের মধ্যে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেয়। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অপর দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, তারা আশা করেছিলেন সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করবেন তারা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে, তাদেরই মানিক মিয়াকে আঘাত করেছিলেন। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং আপিল করার পরিকল্পনা নেই।
"আমরা আশা করেছিলাম সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব"
"বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যাদের সাজা হয়েছে, তাদেরই মানিক মিয়াকে আঘাত করেছিলেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক অসীম কুমার দে, মোতাহার মিয়া, মনির মিয়া, কামাল মিয়া, আইনজীবী সারওয়ার ই আলম, আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন অভিযুক্ত, ৯ জন দোষী, ৩ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৬ জন খালাস, ১ লাখ টাকা জরিমানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!