📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক ব্যবসায়ী শিশুকে (১০) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ২০ টাকা নেওয়ার পরে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনাটি সালিসে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। আসামি পলাতক রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ব্যবসায়ী শিশুকে (১০) জোরপূর্বক তাঁর দোকানে নিয়ে যেয়ে ধর্ষণ করেছেন। ঘটনাটি সালিসে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। আসামি ইয়াসিন মিয়া (৫০) এখনও পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় ১০ বছর বয়সী শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ২০ টাকা নেওয়া হয় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়
- 📌 ঘটনাটি সালিসে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শিশুর পরিবারকে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলামের হুমকি দেওয়া হয়
- 📌 আসামি ইয়াসিন মিয়া (৫০) এখনও পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে
- 📌 শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি গ্রামে শিশুটি বাজারে তেল কিনতে গিয়েছিল। বাজার থেকে ফেরার পথে স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া (৫০) তাকে জোর করে তাঁর দোকানে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ঘটনায় শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় এবং ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে তাকে দোকান থেকে বের করে দেয়া হয়। বাড়িতে ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে ঘটনার সকল বিবরণ খুলে বলে।
শিশুর বাবা অভিযোগ করেছেন, সালিস–মীমাংসার নামে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে সালিস বসে। সেখানে ইয়াসিন মিয়াকে শুধু ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি দফা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শিশুর বাবা রাজি হননি। আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে ইয়াসিন মিয়া ও রবিউল ইসলাম হুমকি দেন। পরে শনিবার রাতে ইয়াসিন মিয়াকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়।
বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানার পর আমরা একত্রে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো সালিস হয়নি। ধর্ষণের বিচার তো আর সালিসে হতে পারে না। শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এর বিচার হবে।’
ভুক্তভোগী শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, শিশুটিকে আজ সকালে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কসবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকে আসামি ইয়াসিন মিয়া পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
"ধর্ষণের ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানার পর আমরা একত্রে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো সালিস হয়নি। ধর্ষণের বিচার তো আর সালিসে হতে পারে না। শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এর বিচার হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলা, বাদৈর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াসিন মিয়া (৫০), রবিউল ইসলাম, শিশুর বাবা-মা, আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া, আলী মোহাম্মদ রাশেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর বয়সী শিশু, ৫০ বছর বয়সী ইয়াসিন মিয়া, ২০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!