📌 কুমিল্লার আজফর হোসেনের মৃত্যুর পর দুই স্ত্রী ও সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের জটিলতা উন্মোচিত হয়। আইনজীবীরা বলেন, মুসলিম ও হিন্দু আইনে একাধিক স্ত্রীর সম্পত্তি অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হয়
বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা আজফর হোসেনের মৃত্যুর পর তার দুই স্ত্রী ও সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের জটিলতা উন্মোচিত হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি পাঁচতলা ভবনসহ কুমিল্লায় বিপুল সম্পত্তি রেখে যান। তবে প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেন জানান, মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী তাদের তিন মেয়ের সম্পত্তির ভাগ কমে যাবে কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার ছেলেরও অংশ থাকবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লার আজফর হোসেন মৃত্যুর পর ঢাকার ধানমন্ডির পাঁচতলা ভবনসহ কুমিল্লায় বিপুল সম্পত্তি রেখে যান। তার প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেনের তিন মেয়ে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক ছেলে রয়েছে।
- 📌 মুসলিম আইনে একজন পুরুষের সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী থাকতে পারে। পাঁচতম স্ত্রীকে 'অনিয়মিত বিয়ে' বলে গণ্য করা হয়।
- 📌 সন্তান না থাকলে একজন বা একাধিক স্ত্রী মিলে মৃত স্বামীর মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ পাবেন। সন্তান থাকলে স্ত্রীদের অংশ হবে আট ভাগের এক ভাগ।
- 📌 তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না, তবে দেনমোহর ও খোরপোশ পাবেন। যদি তার সন্তান থাকে, তাহলে সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
- 📌 হিন্দু আইনে প্রথম স্ত্রীকে বৈধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়, অন্য স্ত্রীদের কোনো আইনি অধিকার নেই।
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার বাসিন্দা আজফর হোসেনের মৃত্যুর পর তার প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেন জানান, মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী তাদের তিন মেয়ের সম্পত্তির ভাগ কমে যাবে। কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার ছেলেরও সম্পত্তির অংশ থাকবে। মি. হোসেনের মৃত্যুর পর প্রথমে ধানমন্ডির পাঁচতলা বাড়ির ভাগ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কারণ কাগজে কলমে ওই বাড়িটি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করা ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, মুসলিম আইনে একজন পুরুষের স্ত্রীর সংখ্যা তার সম্পত্তিতে স্ত্রীদের অংশের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। সন্তান না থাকলে একজন বা একাধিক স্ত্রী মিলে মৃত স্বামীর মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ পাবেন। সন্তান থাকলে স্ত্রীদের অংশ হবে আট ভাগের এক ভাগ।
আইনজীবী মি. ভৌমিক আরও বলেন, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না, তবে দেনমোহর ও খোরপোশ পাবেন। যদি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঘরে মৃত স্বামীর সন্তান থাকে, তাহলে সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
হিন্দু আইনে প্রথম স্ত্রীকে বৈধ স্বীকৃতি দেওয়া হয়, অন্য স্ত্রীদের কোনো আইনি অধিকার নেই। আইনজীবীরা বলেন, একজন হিন্দু পুরুষ স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। তবে কেবল প্রথম স্ত্রীই আইনগত বৈধতা পাবেন।
"মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী, যেহেতু তার ছেলে সন্তান নাই, তাই এখন মৃত স্বামীর সব সম্পত্তিতে তার তিন মেয়ের ভাগ কমে যাবে। কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী আর তার ছেলের ভাগেও সম্পত্তির অংশ যাবে।"
"উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম একজন পুরুষের স্ত্রীর সংখ্যা স্বামীর সম্পত্তিতে তার অংশের পরিমাণকে প্রভাবিত করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ধানমন্ডি), কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজফর হোসেন, সেলিনা হোসেন, উজ্জল ভৌমিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ মিনিট (পড়ার সময়), ৪ জন (সর্বোচ্চ স্ত্রী), ৪ ভাগের ১ ভাগ (সন্তান না থাকলে স্ত্রীদের অংশ), ৮ ভাগের ১ ভাগ (সন্তান থাকলে স্ত্রীদের অংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!