📅 ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার জটিলতা ও আইনি পথ: অভিভাবকত্ব কি দত্তক?

বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার জটিলতা ও আইনি পথ: অভিভাবকত্ব কি দত্তক?

📷 ছবি: বিবিসি বাংলা

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 বিবিসি বাংলা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই। আইনজীবীরা বলছেন, এখানে শুধুমাত্র শিশুর অভিভাবকত্ব পাওয়া যায়, যা দত্তকের সমতুল্য নয়। নিঃসন্তান দম্পতিরা স্ট্যাম্পে সই করে বা আদালতের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, কিন্তু আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ সময় লাগে

বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া দম্পতিদের জন্য আইনি জটিলতা ও বাধা রয়েছে। নিঃসন্তান দম্পতিরা বিভিন্ন উপায়ে শিশুকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে চাইলে তারা আবারও মুখোমুখি হতে পারেন জটিলতার। সাইফ সালেহীন (ছদ্মনাম) একজন বেসরকারি চাকরিজীবী যিনি ২০১৯ সালে স্ট্যাম্প কাগজে সই করে শিশু দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াটি আইনসিদ্ধ নয় এবং বিপদে পড়তে পারেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই — শুধুমাত্র শিশুর অভিভাবকত্ব (গার্ডিয়ানশিপ) পাওয়া যায়, যা দত্তকের সমতুল্য নয়।
  • 📌 মুসলিম আইনে দত্তকের কোনো বিধান নেই — শিশুর অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা দীর্ঘ সময় নেয়।
  • 📌 স্ট্যাম্পে সই করে শিশু দত্তক নেওয়া আইনসিদ্ধ নয় — আইনজীবীরা বলছেন, এটি আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
  • 📌 অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য আদালতের মাধ্যমে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় — শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করতে টাকা জমা দিতে হতে পারে।
  • 📌 হিন্দু ধর্মে দত্তক নেওয়া যায় — কিন্তু মুসলিম আইনে শিশুর বায়োলজিক্যাল বাবা-মার নাম পরিবর্তন করা যাবে না।

📰 বিস্তারিত

বাংলাদেশে সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া দম্পতিরা মুখোমুখি হতে পারেন বিভিন্ন আইনি জটিলতার। সাইফ সালেহীন (ছদ্মনাম) একজন বেসরকারি চাকরিজীবী যিনি বিয়ের সাত বছরে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখিয়েছেন। কিন্তু স্ত্রী কনসিভ না হওয়ায় অবশেষে বাচ্চা দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “বাচ্চা দত্তক নেয়াটা ভয়াবহ জটিল। আইনি জটিলতা এড়াতে স্ট্যাম্প কাগজে সই করে ছয় বছর আগে শিশু দত্তক নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, “আমার মেয়ে তার আসল বাবা-মায়ের ষষ্ঠ সন্তান ছিল। ওর যখন ১৮ দিন তখন তাদের সঙ্গে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়ে চুক্তি করি যে এই মেয়ের ওপর তাদের আর কোনো অধিকার থাকবে না। তারা কখনো ওকে নিতে পারবে না। বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা দেই তাদের।”

আইনজীবীরা বলছেন, এইভাবে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করে সন্তান দত্তক নেওয়াটা আইনসিদ্ধ নয়। বাংলাদেশে শিশু দত্তক নেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই। শুধুমাত্র শিশুর অভিভাবকত্ব (গার্ডিয়ানশিপ) পাওয়া যায়। আইনজীবী মিতি সানজানা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট - ১৮৯০ অনুযায়ী কোনো শিশুর অভিভাবকত্ব যে কেউ পেতে পারেন। বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দত্তকের কনসেপ্টই নেই। তাই গার্ডিয়ানশিপ পাওয়া আর দত্তক নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।”

লুৎফা নাজনীন (ছদ্মনাম) একজন ব্যাংকের কর্মকর্তা যিনি বিয়ের ১১ বছরেও সন্তান না হওয়ায় শিশু দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, “আইনজীবীরা বললেন দত্তক (আইন) নাই দেশে, গার্ডিয়ানশিপ (অভিভাবকত্ব) পাবো। পরে আজিমপুরের সরকারি শিশু সদনে খোঁজ নেই। সেখান থেকে দেড় মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে আমি পছন্দ করি। তিন দিন বয়সে ওই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে গিয়েছিলো।”

মিজ নাজনীন বলেন, “আদালত মেয়ের কল্যাণে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পড়ালেখার খরচ বাবদ একটা ভালো অ্যামাউন্টের টাকা এফডিআর করে দিতে বলেন। সেটার প্রমাণ হিসেবে সরকারি অফিসে রশিদও জমা দিয়েছি আমি। আদালত যখন পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছিল যে আমি এই শিশুর দায়িত্ব নিতে পারবো, তখন আমাকে গার্ডিয়ান করে রায় দিল।”

"গার্ডিয়ানশিপ পাওয়া আর দত্তক নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দত্তকের কনসেপ্টই নেই।"

আইনজীবীরা বলছেন, মুসলিম আইনে সন্তান দত্তক নেওয়ার কোনো বিধান নেই। অনেক সময়ই শিশু দত্তক নেওয়ার কথা শোনা যায় সেটি আসলে দত্তক নয়, বরং শিশুর অভিভাবকত্ব পাওয়া। এই প্রক্রিয়ায় যে কেউই শিশুর অভিভাবক হতে পারেন। ফলে অভিভাবকত্ব পাওয়া, আর দত্তক নেওয়া একেবারেই ভিন্ন বলে জানান আইনজীবীরা।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফ সালেহীন (ছদ্মনাম), লুৎফা নাজনীন (ছদ্মনাম), আইনজীবী মিতি সানজানা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ মিনিট (পড়ার সময়), ১৮ দিন (শিশুর বয়স), ১১ বছর (বিয়ের সময়), ২০১৯ (দত্তক নেওয়ার বছর)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖