📌 চাঁদা না দিলে দুর্বৃত্তরা রাজধানীর রায়েরবাজারে জে আর কুরিয়ার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরায় প্রতিষ্ঠানের এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ জে আর গ্রুপের এজিএম জয়ন্ত চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসী চক্রের ধারাবাহিক হামলায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর রায়েরবাজারে জে আর কুরিয়ার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরায় প্রতিষ্ঠানের এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় একদল দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটায়। আগুনে গাড়িতে থাকা মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদা না দিলে দুর্বৃত্তরা জে আর কুরিয়ার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরায় এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি
- 📌 জয়ন্ত চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী চক্র প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে
- 📌 নারায়ণগঞ্জ, শাহবাগ ও মিরপুরে আগে-পরে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে
- 📌 হাজারীবাগে প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউসে ৩১ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুটের ঘটনা ঘটে, পুলিশ চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা নেওয়ার কথা জানায়
- 📌 কর্মীদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে, প্রতিষ্ঠান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানায়
📰 বিস্তারিত
এ জে আর গ্রুপের এজিএম জয়ন্ত চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী চক্র প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর শাহবাগ ও রায়েরবাজারে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মিরপুরে পেট্রলবোমা ছুড়ে এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর শরীরে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ রায়েরবাজারে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও নথিপত্র পুড়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ব্যাংক ও বিমাসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মূল্যায়ন শেষে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কর্মী নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ঘটনার কারণে তাঁদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে হামলা ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের একটি ওয়্যারহাউসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৩১ লাখ টাকা মূল্যের সরঞ্জাম লুটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ডাকাতির অভিযোগে মামলা করতে চাওয়া হলেও পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজি। এ কারণে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। ঘটনায় মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তিরা ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে ওয়্যারহাউসের পশ্চিম গেটে আসেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। হামলাকারীদের আট থেকে নয়জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দু-তিনজনের হাতে শটগানসদৃশ অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
"দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী চক্র প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করেছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর রায়েরবাজার, হাজারীবাগ, নারায়ণগঞ্জ, শাহবাগ, মিরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জয়ন্ত চৌধুরী (এজিএম, এ জে আর গ্রুপ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১-১.৫ কোটি টাকা (ক্ষয়ক্ষতি), ৩১ লাখ টাকা (লুটের সরঞ্জাম), ৭০-৮০ জন (হামলাকারী), ৩৫-৪০টি মোটরসাইকেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!