📌 ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে নাসা গ্রুপ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ৮৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন। দুদক অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করেছেন
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে যুক্তরাজ্যের জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা ৫৩ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৮৫ কোটি টাকা) জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জার্সির ইউবিএস ব্যাংক হিসাব থেকে ৫৩ লাখ পাউন্ড (৮৫ কোটি টাকা) অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
- 📌 অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে অর্থ স্থানান্তর: দুদক জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
- 📌 অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা চলছে।
- 📌 ২৬টি ব্যাংক থেকে ঋণ আত্মসাৎ: দুদক অনুসন্ধানে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সহযোগীদের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন।
- 📌 অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ: প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড (৫৩ লাখ পাউন্ড) জমা ছিল, যা বাংলাদেশ টাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।
📰 বিস্তারিত
দুদকের আবেদনে জানানো হয়েছে, ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৭ মে আইল অব ম্যানে নিবন্ধিত হয়েছিল। একই বছরের ২ অক্টোবর জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খোলা হয়। দুদক অনুসন্ধানে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। এই অর্থের একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুদক আরও জানিয়েছে, বিদেশে থাকা এই সম্পদের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দাখিল করা আয়কর বিবরণীতেও উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি অর্থ পাচার মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত জার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবের অর্থ ফ্রিজ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদও জব্দ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
"দুদক জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মালিক নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম। গত ৬ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী ওই হিসাবে প্রায় ৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড জমা ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত), জার্সি (যুক্তরাজ্য), আইল অব ম্যান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম মজুমদার (নাসা গ্রুপ চেয়ারম্যান), নাসরিন ইসলাম (স্ত্রী), শাহজাহান কবির (সিনিয়র স্পেশাল জজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ কোটি টাকা (৫৩ লাখ পাউন্ড), ২৬টি ব্যাংক, ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ, ২০১৯ (প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন), ২০২৫ (অর্থ পাচার মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!