📌 ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া ইউনেস্কো কর্মকর্তা মোহাম্মদ এল-শামির মৃত্যুতে ইউনাইটেড নেশনস তদন্তের দাবি জানিয়েছে। হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে সানাা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এ পর্যন্ত ৭৩ জন ইউনেস্কো কর্মকর্তা বন্দী রয়েছে
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া ইউনাইটেড নেশনস কর্মকর্তা মোহাম্মদ এল-শামির মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইউনেস্কোর মানবাধিকার কর্মকর্তা এল-শামি ২০২৪ সালের জুন মাসে হুথি কর্তৃক অপহৃত হন এবং তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর মাত্র সাম্প্রতিককালে জানানো হয়। এই ঘটনায় ইউনাইটেড নেশনসের মানবাধিকার কমিশনার ভল্কার টার্ক এবং সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও গুতেরেস উভয়েই হুথির বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউনাইটেড নেশনস কর্মকর্তা মোহাম্মদ এল-শামি হুথি হাতে বন্দী অবস্থায় মারা যান, পরিবারকে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি
- 📌 ইউনেস্কো মানবাধিকার কমিশনার ভল্কার টার্ক বলেছেন, মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারকে জানানো দরকার
- 📌 ইউনেস্কো সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, বন্দী ইউনেস্কো কর্মকর্তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন
- 📌 হুথি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালে ৬০ জন ইউনেস্কো ও এনজিও কর্মকর্তাকে "আমেরিকা-ইসরায়েলী জাস্টিক নেটওয়ার্ক" বলে অভিযুক্ত করেছিল
- 📌 ইয়েমেনের সরকার স্বীকৃত মানবাধিকার মন্ত্রী মেশদাল মোহাম্মদ বলেছেন, হুথিরা এল-শামির অপহরণ ও মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী
- 📌 হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত মানবাধিকার কর্মীদের জন্য তদন্ত করা অসম্ভব বলে মনে করা হয়
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০১৪ সাল থেকে সানাা শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সময়ে ইউনেস্কো ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হুথিরা নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করছে। মোহাম্মদ এল-শামি ইউনেস্কোর মানবাধিকার অফিসের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে হুথি কর্তৃক অপহৃত হন এবং তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর মাত্র সাম্প্রতিককালে জানানো হয়।
ইউনাইটেড নেশনসের মানবাধিকার কমিশনার ভল্কার টার্ক বলেছেন, “এটি ইউনেস্কো মানবাধিকার অফিস এবং সম্পূর্ণ ইউনাইটেড নেশনসের জন্য একটি দুঃখজনক ক্ষতি। মোহাম্মদের পরিবার মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পায়নি – তারা সত্য জানার অধিকার রাখে।” তিনি আরও বলেছেন, “এতে সকল প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা ও বন্দী রেকর্ড প্রকাশের দরকার, প্রমাণ সংরক্ষণের এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের। কোনো অপরাধের জন্য দায়িত্ব নেওয়া দরকার।”
ইউনাইটেড নেশনস সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, “আমি আমার ইউনেস্কো সহকর্মী মোহাম্মদ এল-শামির মৃত্যুর জন্য হুথি কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী অবস্থায় থাকাকালীন ঘটনাকে ঘৃণিত ও গভীরভাবে দুঃখিত। আমি ইউনেস্কো কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য গভীর উদ্বেগে। আমি তাদের মুক্তির দাবি পুনরাবৃত্তি করছি।”
হুথি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালে মোহাম্মদ এল-শামি অপহৃত হওয়ার সময় ৬০ জন ইউনেস্কো ও এনজিও কর্মকর্তাকে “আমেরিকা-ইসরায়েলী জাস্টিক নেটওয়ার্কের” অংশ বলে অভিযুক্ত করেছিল। এছাড়া তারা নিরাপত্তা কর্মকর্তা, এনজিও কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদেরকে জাস্টিক অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে ৭৩ জন ইউনেস্কো কর্মকর্তা এবং শতাধিক মানবিক কর্মকর্তা হুথি কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী রয়েছে।
ইয়েমেনের সরকার স্বীকৃত মানবাধিকার মন্ত্রী মেশদাল মোহাম্মদ বলেছেন, “মানবাধিকার কর্মীদের অপহরণের ঘটনা দুই বছর ধরে চলছে, যার ফলস্বরূপ একজন কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হলেও তার পরিবার তাকে দেখতে পারেনি বা তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেনি। এই বিষয়ে একটি সার্বিক পর্যালোচনা করা দরকার।”
হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত মানবাধিকার কর্মীদের জন্য তদন্ত করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী তাওফিক আলহামিদি বলেছেন, “হুথি কর্তৃপক্ষ কারাগার, চিকিৎসা রেকর্ড এবং সাক্ষীদের নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া কারাগার ও মানবাধিকার নিরীক্ষণের কোনো বিচারিক বা মানবাধিকার পর্যালোচনা নেই। এই দেরি ও তথ্য সংরক্ষণের অভাব হুথির একটি পরিকল্পিত আচরণ হতে পারে, যাতে তারা কিছু তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারে বা তদন্ত করা কঠিন করে তুলতে পারে।”
"এটি ইউনেস্কো মানবাধিকার অফিস এবং সম্পূর্ণ ইউনাইটেড নেশনসের জন্য একটি দুঃখজনক ক্ষতি। মোহাম্মদের পরিবার মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পায়নি – তারা সত্য জানার অধিকার রাখে।"
"আমি আমার ইউনেস্কো সহকর্মী মোহাম্মদ এল-শামির মৃত্যুর জন্য হুথি কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী অবস্থায় থাকাকালীন ঘটনাকে ঘৃণিত ও গভীরভাবে দুঃখিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েমেন (সানাা, হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ এল-শামি, ভল্কার টার্ক, অ্যান্টোনিও গুতেরেস, মেশদাল মোহাম্মদ, তাওফিক আলহামিদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ জন ইউনেস্কো কর্মকর্তা বন্দী, ৬০ জন কর্মকর্তাকে জাস্টিক অভিযোগে গ্রেফতার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!