📌 একসময় যুদ্ধ ও ধ্বংসের প্রতীক ইরাক এখন ধর্মীয় পর্যটনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাচীন উর শহর থেকে শুরু করে কারবালা ও নাজাফের পবিত্র স্থানগুলোতে পর্যটকদের পদচারণা বাড়ছে। ধর্মীয় পর্যটনের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে
একসময় যুদ্ধ, ধ্বংস আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে কুখ্যাত ছিল ইরাক। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শিয়া মুসলিমদের পবিত্র স্থান কারবালা ও নাজাফের পাশাপাশি খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের জন্যও ইরাক নতুন করে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরাকের প্রাচীন উর শহর খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার অব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
- 📌 উরের জিগুরাট ও নতুন গির্জা খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের আকর্ষণ করছে
- 📌 কারবালায় আরবাইন উৎসবে ২০২৫ সালে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন
- 📌 ইরানের অর্থনৈতিক সংকটে নাজাফে ইরানি তীর্থযাত্রীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ২৫০ জনে
- 📌 ইরাকের পর্যটনব্যবস্থায় ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানকে একত্রিত করে প্যাকেজ তৈরি হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
২০২১ সালে পোপ ফ্রান্সিস ইরাক সফরে উর শহর পরিদর্শন করেন। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে উর শহর পরিচিতি লাভ করে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬ শতকে প্রতিষ্ঠিত উর শহরটি ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। শহরটির উৎপত্তি উবাইদ যুগে, আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার অব্দে। উরের প্রথম নথিভুক্ত রাজা ছিলেন মেসান্নেপাদা।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইরাক ও ভ্যাটিকানের মধ্যে উরকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রা আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয় ইরাকি নিউজ ডট কম-এ। উরের প্রাচীন জিগুরাট, নতুন গির্জা এবং ‘আব্রাহামের ভূমি’ হিসেবে এর ধর্মীয় পরিচয়—সব মিলিয়ে ইরাক এখন খ্রিষ্টান ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের একটি নতুন করিডর তৈরির চেষ্টা করছে।
ধর্মীয় পর্যটনের সবচেয়ে বড় আয়োজন আরবাইন উৎসব। গত বছর এ অনুষ্ঠানে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে আল-আব্বাস মাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রাস্তাজুড়ে স্বেচ্ছাসেবীদের মাওকিব বা অস্থায়ী সেবাকেন্দ্রে তীর্থযাত্রীদের বিনা মূল্যে খাবার, পানি, বিশ্রাম ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের এক তীর্থযাত্রীর ৫০০ কিলোমিটার হাঁটার অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে।
"ধর্মীয় পর্যটন শুধু আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নয়, ইরাকের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনশিল্পেরও বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।"
তবে এই পর্যটনের একটি অংশ কিছুটা ঝুঁকির মুখে আছে। এ বছরের শুরুতে ইরানের অর্থনৈতিক সংকটে নাজাফে ইরানি তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যায়। রয়টার্স জানায়, আগে প্রতিদিন যেখানে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ইরানি তীর্থযাত্রী আসতেন, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০০ থেকে ২৫০ জনে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল ও দোকানগুলোতেও।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পোপ ফ্রান্সিস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ২০ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!