📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে। এই নীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থান মেয়াদ ৪ বছরে সীমাবদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের মেয়াদ ২৪০ দিনে কমিয়ে আনা ছিল। বিচারপতি ডেনিস সেলর এই নিয়মকে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পথ রুদ্ধ করার বলে আখ্যায়িত করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগের উপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিচারপতি ডেনিস সেলরের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে।
- 📌 নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে পুনরায় ভিসা আবেদন করতে হবে।
- 📌 বিদেশি সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে মাত্র ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল, চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তা আরো কড়া করে ৯০ দিনে নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 বিচারপতি ডেনিস সেলর বলেছেন, নতুন নিয়মের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পথ রুদ্ধ হবে।
- 📌 আদালত ২ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন ভিসা নীতির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার একদিন আগে, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস সেলর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। এই নীতির অধীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবাধে অবস্থানের সুযোগ পেতেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে মাত্র ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কড়া করে ভিসার মেয়াদ মাত্র ৯০ দিনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট এই ভিসা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। বিচারপতি ডেনিস সেলর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করে আপাতত ডিএইচএসের নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান উদার কাঠামোর কারণে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পেয়েছেন এবং বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী গবেষণা সম্ভব হয়েছে।
বিচারপতি সেলর নতুন নীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, ‘‘নির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট কিছু ধারার অজুহাতে কোনো প্রকার কারণ না দেখিয়ে এবং আপিলের সুযোগ না দিয়ে একজন ডিএইচএস কর্মকর্তা চাইলেই যেকোনো অ-মার্কিন নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা শিক্ষকতা ক্যারিয়ার এক মুহূর্তে থামিয়ে দিতে পারেন।’’ তিনি আরও বলেছেন, এই নিয়মের অপব্যবহারের সুযোগ অপরিসীম, বিশেষ করে যেসব বিদেশি সাংবাদিক সরকার বা ডিএইচএস কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করবেন, তাদের ভিসা আর নবায়ন না হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।
‘‘বর্তমান উদার কাঠামোর কারণে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পেয়েছেন। আর এরই সুবাদে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী গবেষণা সম্ভব হয়েছে; যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এনে দিয়েছে অভাবনীয় সব সাফল্য।’’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি ডেনিস সেলর, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর (শিক্ষার্থীদের মেয়াদ), ২৪০ দিন (সাংবাদিকদের মেয়াদ), ৯০ দিন (চীনা সাংবাদিকদের মেয়াদ), ১১ লাখ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!