📌 যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দশকের পর দশক ধরে চলা এই তালিকায় সিরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ সরকারের আমলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে, যা ছিল আসাদ সরকারের সময় থেকে বহাল;
- 📌 মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে;
- 📌 আল-নুসরাহ ফ্রন্টের তালিকা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যেটি পূর্বে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত ছিল;
- 📌 সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রসলান এক্স-এ এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন;
- 📌 মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সিরিয়ার এই পরিবর্তনকে ‘বিচ্ছিন্নতা থেকে অংশীদারিত্বের দিকে যাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন;
- 📌 সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বার্নিয়াহ মার্কিন সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন;
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর সিরিয়ার উপর থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল;
- 📌 আল-শারা সরকার সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন পশ্চিমা নেতাদের সাথে বৈঠক করেছে;
- 📌 আল-নুসরাহ ফ্রন্ট পূর্বে আল-কায়েদার শাখা ছিল এবং এটি সিরিয়ায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল;
- 📌 এই তালিকা থেকে অপসারণের ফলে সিরিয়ায় বৈদেশিক সাহায্য, প্রতিরক্ষা রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে;
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এটি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সিরিয়াকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে সিরিয়ার উপর থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। এরপর জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে আল-শারা সরকারের দেশকে একত্রিত করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল-নুসরাহ ফ্রন্ট পূর্বে আল-কায়েদার শাখা ছিল এবং এটি পূর্বে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত ছিল। আল-শারা নেতৃত্বাধীন এই দলটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।
এই তালিকা থেকে অপসারণের ফলে সিরিয়ার উপর আরোপিত বিধিনিষেধ যেমন বৈদেশিক সাহায্য, প্রতিরক্ষা রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনের উপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রসলান এক্স-এ এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তার যথাযথ স্থান ফিরিয়ে দেবে।” সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বার্নিয়াহও মার্কিন সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপ সিরিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগ ও উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে।”
“আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।”
“এটি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সিরিয়াকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র;
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট, সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রসলান, সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বার্নিয়াহ;
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (তালিকার আইটেম সংখ্যা), ২০২৪ (বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বছর), ২০২৫ (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বছর), ২০২৬ (বর্তমান বছর)।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!