📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোকে মার্কিন ফোন নম্বর থেকে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করবে। এফসিসি ১৯ নভেম্বর ভোট দেবে। চীন তীব্র বিরোধিতা করছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার অভিযোগ তুলেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোকে মার্কিন ফোন নম্বর থেকে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ১৯ নভেম্বর ভোট দেবে। জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও রোবোকল প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রথম স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ১৯ নভেম্বর চীনা টেলিকম কোম্পানিগুলোকে মার্কিন ফোন নম্বর থেকে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করবে।
- 📌 চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকমসহ অন্যান্য আইপি ভিত্তিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে চীনা সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।
- 📌 চীন তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- 📌 ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক পণ্য পরীক্ষার কাজে চীনের সব পরীক্ষাগারকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ খাতে চীনের গুপ্তচরবৃত্তি ও অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বেড়েছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে ১৯ নভেম্বর ভোট দেবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, চীনের তিনটি বৃহৎ টেলিকম প্রতিষ্ঠান — চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকমসহ অন্যান্য ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ভিত্তিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন ফোন নম্বর থেকে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হবে। এফসিসি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও রোবোকল প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও অবৈধ স্বয়ংক্রিয় ফোনকলকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর আরও শক্তিশালী হবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ তুলেছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘চীন এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত করছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’ তিনি আরও বলেন, চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফসিসি চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নেই শুধু ফোন নম্বর থেকে সরাসরি প্রবেশাধিকার বন্ধ করেই। তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে এমন আইপি-ভিত্তিক সেবাদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে চীনের হুয়াওয়ে ও জেডটিই'র মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারীদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।
এছাড়া, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক পণ্য পরীক্ষার কাজে চীনের সব পরীক্ষাগারকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ তথ্য ও অবকাঠামোয় চীনের প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়েছে।
"চীন এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত করছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।"
২০২৪ সালের শেষ দিকে, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ‘সল্ট টাইফুন’ নামে পরিচিত চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি গোষ্ঠী দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। গোষ্ঠীটি গ্রাহকদের ফোনকলের রেকর্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলসংক্রান্ত তথ্য চুরি করার পাশাপাশি দেশটির টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোতেও প্রবেশ করেছিল বলে জানায় ওয়াশিংটন। এফবিআই জানিয়েছে, সল্ট টাইফুনের হুমকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র), বেইজিং (চীন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রেন্ডন কার (এফসিসি চেয়ারম্যান), গুও জিয়াকুন (চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ নভেম্বর (ভোটের তারিখ), ২৯ অক্টোবর (এফসিসি ঘোষণা), ৩০ অক্টোবর (চীনের প্রতিক্রিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!