📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। উচ্চ ব্যয়, কর কমানো ও সুদের বোঝার কারণে ঋণ বৃদ্ধির গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ট্রাম্প ও বাইডেন সরকারের সময়ে ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার (৪০ লাখ কোটি ডলার) অতিক্রম করেছে। অর্থনীতিবিদরা এই ঋণ বৃদ্ধিকে দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
- 📌 ট্রাম্প সরকারের সময়ে ঋণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 বাইডেন সরকারের সময়ে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয় বছরে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আয়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে
- 📌 দেশটির ঋণের সুদ পরিশোধে বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার
📰 বিস্তারিত
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সময়ে জাতীয় ঋণ এত উচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয়, কর কমানো এবং সুদের বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট তৈরি করছে।
২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। মাত্র নয় বছরের ব্যবধানে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময় অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে।
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ে আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জো বাইডেনের ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদে সরকার অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে ব্যাপক ব্যয় করেছিল। ওই সময়ে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
"বর্তমান ঋণ সংকটের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, বড় বড় জাতীয় সংকট যেমন বৈশ্বিক মন্দা ও কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ চলে যায় সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং প্রবীণ সেনাসদস্যদের সেবায়। তৃতীয় কারণ হলো সুদের হার বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর ফলে ঋণের সুদ পরিশোধে বছরে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয় বছরে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও আয় তার অর্ধেকেরও কম। উদাহরণ হিসেবে জুলাই মাসে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করেছে ৩৩৪ বিলিয়ন ডলার, অথচ একই সময়ে ব্যয় করেছে ৭৬৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আয় ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণেরও কম। এর ফলে সরকারকে আরও ঋণ নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ বা ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার ধার করা হয়েছে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। দেশীয় ঋণদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কয়েকটি হলো মিউচুয়াল ফান্ড (৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার), ফেডারেল রিজার্ভ (৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (২ ট্রিলিয়নের বেশি)। বিদেশি ঋণদাতাদের মধ্যে জাপান সবচেয়ে বেশি অর্থ ধার দিয়েছে (প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার), এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য (৮৮৯ বিলিয়ন ডলার) এবং চীন (৬৮৩ বিলিয়ন ডলার)।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার, ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার, ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!