📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। করোনা মহামারি পরবর্তী সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক কর্মসূচির কারণে এই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। দেশটির ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঋণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
- 📌 ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 করোনা মহামারি পরবর্তী দুই বছরে ঋণ বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদ মিলিয়ে ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 জো বাইডেনের চার বছরে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ঘাড়ে আনুমানিক ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার ঋণ রয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি খরচ প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। সরকারি রাজস্বের তুলনায় ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটি বড় ধরনের রাজস্ব সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন জাতীয় ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। পরবর্তী কয়েক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
এই অভূতপূর্ব ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পরবর্তী দুই বছরে। মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্প এবং তার উত্তরসূরি জো বাইডেন প্রশাসন বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিয়ে ব্যয় করেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে তার দুই মেয়াদ মিলিয়ে মোট ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং ক্লিন এনার্জিসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিদলীয় গবেষণা সংস্থা ‘বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টার’-এর প্রধান নির্বাহী মার্গারেট স্পেলিংস বলেছেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির খরচ আয় থেকে অনেক বেশি। এ ছাড়া বাজেটের বড় খাতগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিপুল ঋণ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের সুযোগ নস্যাৎ করছে।’
৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই ঋণের ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ঘাড়ে আনুমানিক ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার এবং পরিবারপ্রতি প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলারের ঋণ রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন’-এর মতে, এই অর্থ চীন, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ভারতের সম্মিলিত অর্থনীতির সমান। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে মার্কিন ট্রেজারি ৪৩২ বিলিয়ন ডলারের মাসিক বাজেট ঘাটতি রেকর্ড করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
‘আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির খরচ আয় থেকে অনেক বেশি। এ ছাড়া বাজেটের বড় খাতগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিপুল ঋণ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের সুযোগ নস্যাৎ করছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন, মার্গারেট স্পেলিংস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার, ১৯.৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার, ৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, ৪৩২ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!