📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও বাজেট ঘাটতির কারণে দ্রুত বাড়ছে ঋণের বোঝা। আগামী এক দশকে তা ৬৪ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিবিও।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে দেখা দিচ্ছে গভীর সংকট। অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়, ঋণের সুদ ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার কারণে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ঋণের পরিমাণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে
- 📌 দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার
- 📌 ২০৩৬ সালের মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও
- 📌 ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার
📰 বিস্তারিত
গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক দশকেরও কম সময়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ঋণ বেড়েছে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি ঘটেছে করোনাভাইরাস মহামারির সময় মাত্র দুই বছরে।
মহামারি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় ও ঋণ নেওয়ার পেছনে ট্রাম্প ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনেরই ভূমিকা ছিল। বাকি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা।
"৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের ওপরও গিয়ে পড়ে। সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বিদেশে অস্থিতিশীলতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।"
কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণ প্রায় চারগুণ হয়েছে। অথচ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন, মায়া ম্যাকগিনিয়াস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার, ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার, ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার, ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!