📌 আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী আদিবাসী গোত্র টোহোনো ও’ওধাম জাতির অভিযোগ, দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রায় বিশজন সদস্য মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ভোররাতে তাদের ভূমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। আদিবাসী কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণকার্য প্রতিহত করতে গেলে তাদের পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়
আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী আদিবাসী গোত্র টোহোনো ও’ওধাম জাতি অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের ভূমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টোহোনো ও’ওধাম জাতির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রায় বিশজন মাস্ক পরিহিত সশস্ত্র ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)’ সদস্য ভোররাতে তিনটি স্থানে নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে উপস্থিত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টোহোনো ও’ওধাম জাতির অভিযোগ, প্রায় বিশজন মাস্ক পরিহিত সশস্ত্র সিবিপি সদস্য নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে ভোররাতে তাদের ভূমিতে প্রবেশ করে
- 📌 আদিবাসী পুলিশ ত্রাণকর্তা জারি করতে গেলে সিবিপি সদস্যরা বাধা প্রদান করেন
- 📌 সিবিপি সদস্যরা নির্মাণ এলাকা ঘিরে রাখেন এবং বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দল (এসডব্লিউএটি) মোতায়েন করেন
- 📌 মেক্সিকান পুলিশও নির্মাণ এলাকা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়
- 📌 আদিবাসী কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণ কাজের জন্য একটি ‘টিথার্ড বেলুন’ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়
- 📌 আদিবাসী পুলিশ ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ ও পেশাদার মিথস্ক্রিয়া চলছে
📰 বিস্তারিত
টোহোনো ও’ওধাম জাতির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে প্রায় বিশজন মাস্ক পরিহিত সশস্ত্র সিবিপি সদস্য ভোররাতে তিনটি স্থানে উপস্থিত হন। আদিবাসী পুলিশ ত্রাণকর্তা জারি করতে গেলে সিবিপি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। নির্মাণ এলাকা ঘিরে রাখা হয় একটি ‘ভেহিক্যাল ব্লকেড’ দিয়ে এবং বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দল (এসডব্লিউএটি) মোতায়েন করা হয় নির্মাণ শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য। মেক্সিকান পুলিশও নির্মাণ এলাকা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। নির্মাণ কাজের জন্য একটি ‘টিথার্ড বেলুন’ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয় বলে আদিবাসী কর্তৃপক্ষ জানায়।
টোহোনো ও’ওধাম জাতির বিবৃতিতে বলা হয়, আদিবাসী পুলিশ ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ ও পেশাদার মিথস্ক্রিয়া চলছে। তবে জাতির সরকার জানায়, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।
এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে টোহোনো ও’ওধাম জাতির বছরের পর বছর ধরে চলমান বিরোধের সর্বশেষ অধ্যায়। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সীমান্ত জুড়ে প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। তবে টোহোনো ও’ওধামসহ অনেক আদিবাসী গোত্র এই নির্মাণের বিরোধিতা করে, কারণ এটি তাদের ভূমির সংবেদনশীল আবাসস্থল, পবিত্র স্থান এবং অন্যান্য অংশ ধ্বংসের হুমকি তৈরি করেছিল।
প্রায় ৩৭ হাজার সদস্য বিশিষ্ট এই আদিবাসী জাতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্য এবং মেক্সিকোর সোনোরা রাজ্যের মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত। জাতির সদস্যরা উভয় দেশেই বসবাস করেন এবং প্রায়শই তাদের আদিবাসী পরিচয়পত্র ব্যতীত অন্য কোনো নথিপত্র ছাড়াই সীমান্ত পার হন। মার্কিন আইনে, ফেডারেল স্বীকৃত আদিবাসী জাতিগুলোকে ‘ঘরোয়া নির্ভরশীল জাতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা তাদের নিজস্ব ভূমির উপর সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করে এবং রাজ্য-স্তরের আইনের অধীন নয়। তবে মার্কিন সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিশেষভাবে জটিল। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আদিবাসী জাতির উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে তা দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াইয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
“আমাদের কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই। আমরা মামলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ জনগণের সেবায় ব্যয় করতে চাই। তবে আমাদের অগ্রাধিকার সর্বদা আমাদের মানুষ, আমাদের সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা করা।”
গত ১৪ আগস্ট মার্কিন জেলা জজ রিচার্ড লিয়ন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী অ্যারিজোনা রাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টোহোনো ও’ওধাম জাতির সরকার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ২০ জন সিবিপি সদস্য, প্রায় ৩৭ হাজার জাতির সদস্য, প্রায় ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!