📅 ২০ আগস্ট ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে চীনা প্রতিযোগিতার প্রভাব: প্রকৃত তথ্য কী বলে?

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে চীনা প্রতিযোগিতার প্রভাব: প্রকৃত তথ্য কী বলে?

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অর্থনীতিবিদদের গবেষণা বলছে, চীনা আমদানির কারণে চাকরি হারানোর সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে অনেক কম, যখন রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে সমপরিমাণ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান কমার প্রধান কারণ ছিল প্রযুক্তিগত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা নয়

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান কমার পেছনে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতার প্রভাব নিয়ে বহুল প্রচলিত ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অর্থনীতিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশিল্পে চাকরি হারানোর সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে সমপরিমাণ নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে ১৯৯০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নিট ১৫ লাখ চাকরি কমেছিল, যার সঙ্গে চীনা পণ্যের আমদানি প্রতিযোগিতা জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
  • 📌 অর্থনীতিবিদ ডেভিড অটর, ডেভিড ডর্ন ও গর্ডন হ্যানসনের গবেষণায় দেখা যায়, চীনা আমদানির প্রতিযোগিতার কারণে ২০১১ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৪ লাখ চাকরি হারিয়ে থাকতে পারে।
  • 📌 ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ লাখের বেশি শ্রমিক চাকরি ছাড়তেন বা তাঁদের চাকরি শেষ হয়ে যেত, যার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ছিলেন উৎপাদনশিল্পের শ্রমিক।
  • 📌 ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে চীনা পণ্যের আমদানি প্রতিযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ লাখ চাকরি কমেছিল, তবে একই সময়ে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় সমপরিমাণ নতুন চাকরিও তৈরি হয়েছিল।

📰 বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, ক্ষমতাবান অভিজাত গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উন্মুক্ত করেছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক উৎপাদনশিল্পের চাকরি চলে যায় এবং দেশটির শিল্পায়নের শক্তি কমে যায়। তবে অর্থনীতিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে যে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

২০০০ সালে চীনের সঙ্গে স্থায়ী স্বাভাবিক বাণিজ্যসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চীনের যোগদানের পর দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদ ডেভিড অটর, ডেভিড ডর্ন ও গর্ডন হ্যানসনের একটি গবেষণায় বলা হয়, চীনা পণ্যের আমদানি প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে চাকরি কমার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের হিসাবে, ১৯৯০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পে নিট ১৫ লাখ চাকরি কমেছিল। পরে ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু ও ব্রেন্ডান প্রাইসকে সঙ্গে নিয়ে করা গবেষণায় তাঁরা দেখান, চীনা আমদানির প্রতিযোগিতার কারণে ২০১১ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৪ লাখ চাকরি হারিয়ে থাকতে পারে।

তবে এই সংখ্যাগুলো বড় না ছোট, তা বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের স্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একটি সাধারণ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ লাখের বেশি শ্রমিক চাকরি ছাড়তেন বা তাঁদের চাকরি শেষ হয়ে যেত। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ছিলেন উৎপাদনশিল্পের শ্রমিক। এটি ওই সময়ের বিশেষ কোনো ঘটনা ছিল না। গত পাঁচ বছরেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে চাকরি ছাড়ার বা হারানোর মাত্রা মোটামুটি একই রকম রয়েছে।

"বাণিজ্য উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে শুধু আমদানির প্রতিযোগিতার দিকটি দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। ১৯৮০, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য এবং আরও ব্যাপকভাবে বিশ্বায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্যও নতুন ও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, বাণিজ্য উন্মুক্ত হলে একটি দেশের মোট কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। কারণ, আমদানি প্রতিযোগিতার কারণে কোনো খাতে চাকরি কমলে রপ্তানিনির্ভর প্রতিষ্ঠান ও খাতে নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে।"

অর্থনীতিবিদ রবার্ট ফিনস্ট্রা ও তাঁর সহলেখকেরা বাণিজ্যের এই দুই দিকই হিসাব করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের গবেষণায় বলা হয়, ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে চীনা পণ্যের আমদানি প্রতিযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ লাখ চাকরি কমেছিল। অন্যান্য দেশের পণ্যের আমদানি প্রতিযোগিতার কারণেও আরও চাকরি হারিয়েছিল। কিন্তু একই সময়ে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় সমপরিমাণ নতুন চাকরিও তৈরি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পের কর্মসংস্থানের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাও বিবেচনা করা দরকার। ১৯৫০-এর দশকের শুরু থেকে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট পর্যন্ত মোট কর্মসংস্থানে উৎপাদনশিল্পের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় এ দীর্ঘমেয়াদি পতনের গতি বরং ধীর হয়েছিল। অর্থাৎ উৎপাদনশিল্পে কর্মসংস্থান কমার প্রবণতা চীন-ধাক্কার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল এবং কয়েক দশক ধরে চলছিল।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু, ডেভিড অটর, ডেভিড ডর্ন, রবার্ট ফিনস্ট্রা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ লাখ, ২৪ লাখ, ৫০ লাখ, ৪ লাখ ২৫ হাজার, ১৯ লাখ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖