📌 প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘লুপহোল’ তৈরির মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপকে ব্যর্থ করতে চাইছে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবেশ ও নগর অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন
প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে বছরে ৫ কোটি ৭০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ার প্রেক্ষাপটে যখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ কঠোর আন্তর্জাতিক চুক্তির দাবি জানাচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্লাস্টিক উৎপাদনে বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত গোপন মেমো অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র চায় এমন একটি চুক্তি যা মার্কিন অর্থনীতি ও সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চায় জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে
- 📌 বিশ্বে বছরে ৫ কোটি ৭০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হলেও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ‘লুপহোল’ তৈরির চেষ্টা করছে
- 📌 বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবেশ, নগর অবকাঠামো ও কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্লাস্টিক দূষণের কারণে
- 📌 আগামী সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের স্বার্থ রক্ষায়ই এই পদক্ষেপ বলে বিশ্লেষকদের অভিমত
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চায় এমন একটি চুক্তি তৈরির পথে এগোচ্ছে যা মূলত আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপকে ব্যর্থ করবে। মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত গোপন মেমো অনুসারে, ওয়াশিংটন জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও অর্থনীতির স্বার্থে প্লাস্টিক উৎপাদনে বিধিনিষেধ আরোপে বিরোধিতা করছে। ফলে বিশ্বজুড়ে বছরে ৫ কোটি ৭০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হলেও বৈশ্বিক চুক্তিতে তা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক দেশগুলোর সামুদ্রিক পরিবেশ, নগর অবকাঠামো ও কৃষিজমি ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক দূষণের মারাত্মক প্রভাবের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো প্রধান শহরগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অবরুদ্ধ করে প্রায়শই তীব্র কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে জমা হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও আইইউসিএন-এর প্লাস্টিক টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যালেক্সান্দ্রা হারিংটন বলেন, প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পক্ষে অভ্যন্তরীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তিতে প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক সীমা নির্ধারণ না করা হলে তা মূলত ধনী দেশগুলোর প্লাস্টিক রপ্তানির সুযোগ বহাল রাখবে, আর বর্জ্যের বোঝায় জর্জরিত হবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফাঁস হওয়া নথির ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, তারা এমন একটি চুক্তি চায় যা সব দেশ মেনে চলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে মার্কিন অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি বা গ্রাহকের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলে এমন বাধ্যতামূলক বিধিবিধান তারা মেনে নেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গৃহীত হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশকে এ বৈঠকে নিজস্ব পরিবেশগত স্বার্থ রক্ষায় জোরালো অবস্থান গ্রহণ করতে হবে বলে পরিবেশবিদরা মনে করছেন।
"প্লাস্টিক উৎপাদনে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অভ্যন্তরীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র; ঢাকা ও চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ; ব্যাংকক, থাইল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যালেক্সান্দ্রা হারিংটন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি ৭০ লাখ টন (বিশ্বে বার্ষিক প্লাস্টিক বর্জ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!