📌 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন দাবি ও জাতিসংঘের সংস্কারের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বৈশ্বিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ততার আহ্বান জানিয়েছেন
জাতিসংঘের সংস্কার ও নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের দাবিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, আফ্রিকা বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী হলেও নিরাপত্তা পরিষদে তাদের কোনো স্থায়ী আসন নেই, যা ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮১তম অধিবেশনের সভাপতি** হিসেবে খলিলুর রহমান আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন দাবি করেছেন, যা ন্যায়সঙ্গত ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন বলে মনে করেন
- 📌 **বৈশ্বিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে** তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছেন: নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ততা
- 📌 **২০২৫ সালে উন্নয়ন সহায়তা ২৩% কমে** ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, বিপরীতে সামরিক ব্যয় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
- 📌 **প্রযুক্তির অপব্যবহার** থেকে ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্যমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন
- 📌 **জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের কাজ** প্রশংসা করে বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির ও হাইতির মানবিক কার্যক্রমের উদাহরণ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে খলিলুর রহমান বলেছেন, আফ্রিকা জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নিরাপত্তা পরিষদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অভাব একটি বড় অপব্যবস্থা। তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়, বরং ন্যায়সঙ্গত ও জাতিসংঘের বৈধতা রক্ষার প্রশ্ন।
বৈশ্বিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনি তিনটি কৌশল উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে বাস্তববাদী হওয়া; দ্বিতীয়ত, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনা; এবং তৃতীয়ত, সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা। তিনি উল্লেখ করেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে, কারণ উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে ২৩% হ্রাস পেয়েছে (১৭৫ বিলিয়ন ডলার)।
খলিলুর রহমান গাজা, সুদান, ইউক্রেন ও মিয়ানমারের সংঘাতের প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের নির্বাচনাত্মক প্রয়োগের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ও দুর্যোগের সময়ও জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের কাজের প্রশংসা করার সাথে সাথে বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির ও হাইতির মানবিক কার্যক্রমের উদাহরণ দিয়েছেন।
প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতে এআই-এর অপব্যবহার এবং বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ত করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক ‘গার্ডরেল’ তৈরিরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
"আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে আনতে হবে। এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ সদর), কক্সবাজার (রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির), হাইতি (মানবিক কার্যক্রম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খলিলুর রহমান (বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১তম অধিবেশন, ৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন, ২৩% হ্রাস (উন্নয়ন সহায়তা), ১৭৫ বিলিয়ন ডলার (২০২৫ সালের সহায়তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!