📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরার মানচিত্র প্রস্তাব পাস হয়। ১৬৪ দেশের সমর্থনে পাস হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বিরোধিতা করে। ফ্রান্সের সরকারও নতুন মানচিত্র প্রণালী গ্রহণের ঘোষণা দেয়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যা বিশ্ব মানচিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে। আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরার জন্য নতুন ধরনের মানচিত্র প্রণালী গ্রহণের প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে শতাব্দী পুরানো মারকেটর মানচিত্রের বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে আফ্রিকা মহাদেশের আকার অনেক ছোট করে দেখানো হত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪ দেশের সমর্থনে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরার মানচিত্র প্রস্তাব পাস হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বিরোধিতা করে
- 📌 ফ্রান্সের সরকার ঘোষণা দেয়, বিশ্ব মানচিত্র থেকে মারকেটর প্রজেকশন বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে
- 📌 আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আকার গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় ১৪ গুণ বড়, কিন্তু মারকেটর মানচিত্রে দুটিকে প্রায় সমান দেখানো হয়
- 📌 নতুন প্রস্তাবের ফলে স্কুল, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম-আয়তনের মানচিত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
- 📌 ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও সীমান্ত বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব মানচিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরার জন্য নতুন ধরনের মানচিত্র প্রণালী গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হয় ১৬৪ ভোটের সমর্থনে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এই প্রস্তাবকে একটি "উগ্র মতাদর্শিক প্রকল্প" বলে অভিহিত করেছেন।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডাফে জাতিসংঘের সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি ন্যায্য মানচিত্র বিশ্বের ভূগোল পরিবর্তন করে না, কিন্তু এটি বিশ্বকে দেখার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মারকেটর মানচিত্রের উপযোগিতাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরার জন্য এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
১৫৬৯ সালে ফ্ল্যান্ডার্সের মানচিত্রকর গেরার্ডুস মারকেটর তৈরি করেছিলেন মারকেটর মানচিত্র। এই মানচিত্রে নাবিকদের সোজা পথে দিকনির্ণয় করার সুবিধা ছিল, কিন্তু এলাকার আয়তনে বড় ধরনের গরমিল ঘটে। বিষুবরেখা থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির আকার বাড়তে থাকে, ফলে আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আকার অনেক ছোট করে দেখানো হয়। গ্রিনল্যান্ড আর আফ্রিকার আকার প্রায় সমান বলে এই মানচিত্রে মনে হয়, অথচ আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় ১৪ গুণ বড়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল ব্যারো ঘোষণা দেন যে, ফ্রান্সের সরকার বিশ্ব মানচিত্র থেকে মারকেটর প্রজেকশন বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট দেখাবে। ইউক্রেন এই উদ্যোগকে সমর্থন করলেও সীমান্ত বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও সীমান্ত বা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে মানচিত্রের কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে।
"একটি ন্যায্য মানচিত্র বিশ্বের ভূগোল পরিবর্তন করে না। এটি বিশ্বকে দেখার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।"
জাতিসংঘের এই প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি মানচিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্বকে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পক্ষে একটি বড় পদক্ষেপ। স্কুল, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম-আয়তনের মানচিত্র বা ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রজেকশনে আফ্রিকার প্রকৃত আকার সঠিকভাবে ফুটে ওঠে, যা শতাব্দী ধরে প্রচলিত মানচিত্রের বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবার্ট ডাফে (টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী), জাঁ-নোয়েল ব্যারো (ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪ (সমর্থনকারী দেশ), ১৪ (আফ্রিকার আকার গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় গুণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!