📌 জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো ৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী নারী ও কন্যা দিবস। এই দিবসের মাধ্যমে আদিবাসী নারীদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অসমতা মোকাবেলা করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে
জাতিসংঘের প্রথমবারের মতো ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী নারী ও কন্যা দিবস’ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পালন শুরু হয়েছে। এই দিবসটি ঘোষণা করা হয়েছে আদিবাসী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বের সদস্যরাষ্ট্রগুলিকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রেজোল্যুশন এ/আরইএস/৮০/১০ অনুমোদন করে প্রতিবছর এই দিবস পালনের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের প্রথম ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী নারী ও কন্যা দিবস’ — ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রেজোল্যুশন অনুমোদিত
- 📌 বিশ্বে আনুমানিক ১৯ কোটি আদিবাসী নারী ও কন্যা রয়েছে, যারা পরিবেশ রক্ষা, প্রথাগত জ্ঞান সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন
- 📌 আদিবাসী নারীদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা, ভূমি অধিকারহীনতা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চনা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অসমতা মোকাবেলা করা দরকার
- 📌 জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আদিবাসী নারীদের মাতৃমৃত্যুর হার ও শিশুমৃত্যুর হার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি
- 📌 আদিবাসী নারীরা পাঁচ স্তরে বৈষম্যের শিকার: আদিবাসী হিসেবে, নারী হিসেবে, দরিদ্র নারী হিসেবে, দুর্গম অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবে ও অভিবাসী হিসেবে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী নারীদের মর্যাদা ও অধিকার স্বীকৃতি, সমর্থন ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। দিবসটি ঘোষণা করা হয়েছে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিফলনের জন্য, যাতে আদিবাসী নারী ও কন্যার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আদিবাসী নারীদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত ঐতিহাসিক কাঠামোগত বৈষম্য তাদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা, ভূমি ও সম্পদে অধিকারহীনতা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চনা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, পাচার, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অসমতা সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাণীতে বলা হয়েছে, ‘আদিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেমের রক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তত্ত্বাবধায়ক। কিন্তু তাদের অধিকার ও জীবন-জীবিকা নানা হুমকির সম্মুখীন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃ ও শিশুসংক্রান্ত জটিলতা ও মৃত্যুহার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেছেন, জাতিসংঘ অধিকারভিত্তিক আদিবাসী স্বাস্থ্য অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করছে।
আদিবাসী নারীদের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১৯ কোটি। তারা পরিবেশ ও প্রথাগত জ্ঞানের রক্ষক, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু বহুমুখী বৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবার অপর্যাপ্ততার কারণে তারা উচ্চ মাতৃমৃত্যুর হার ও শিশুমৃত্যুর হার, প্রসূতি সহিংসতা ও কিশোরী গর্ভাবস্থার শিকার হন।
"আদিবাসী নারীরা পাঁচটি স্তরে বৈষম্যের শিকার হন: আদিবাসী হিসেবে, নারী হিসেবে, দরিদ্র নারী হিসেবে, দুর্গম পাহাড়-বনাঞ্চলের অধিবাসী হিসেবে; এবং পঞ্চম স্তরে অভিবাসী নারী হিসেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্রসমূহ (বিশ্বব্যাপী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্তোনিও গুতেরেস (জাতিসংঘের মহাসচিব), সদস্যরাষ্ট্রগুলো, আদিবাসী নারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেপ্টেম্বর (দিবস), ২৬ নভেম্বর ২০২৫ (রেজোল্যুশন অনুমোদন), ১৯ কোটি (আদিবাসী নারী ও কন্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!