📌 ১৮ বছর বয়সী ডেনিস কস্টেভ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে খেরসন থেকে বাধ্য হয়ে ক্রিমিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে তিনি রাশিয়ান টেলিভিশনে ‘প্রো-রাশিয়ান’ ভিডিওতে অভিনয় করতে বাধ্য হন। বর্তমানে কিয়েভে ফিরে এসে তিনি ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
ইউক্রেনের কিয়েভ — রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে ১৮ বছর বয়সী ডেনিস কস্টেভ খেরসনের একটি বালকাশ্রমে বসবাস করতেন। যুদ্ধের বিরোধিতা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তৈরি করতেন, কিন্তু রাশিয়ান বাহিনী তাকে বাধ্য করে ক্রিমিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনি রাশিয়ান টেলিভিশনের জন্য ‘প্রো-রাশিয়ান’ ভিডিওতে অভিনয় করতে বাধ্য হন। বর্তমানে কিয়েভে ফিরে এসে তিনি ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮ বছর বয়সী ডেনিস কস্টেভ** রাশিয়ান বাহিনী কর্তৃক বাধ্য হয়ে ক্রিমিয়ায় পাঠানো হয় এবং সেখানে রাশিয়ান টেলিভিশনের জন্য ‘প্রো-রাশিয়ান’ ভিডিওতে অভিনয় করতে বাধ্য হন।
- 📌 **রাশিয়ান বাহিনী** বালকাশ্রমের শিশুদেরকে ক্রিমিয়ায় নিয়ে যায় এবং তাদেরকে রাশিয়ান জাতীয় সঙ্গীত শুনিয়ে, রাশিয়ান পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ‘রাশিয়ানীকরণ’ প্রক্রিয়া চালায়।
- 📌 **ইউক্রেনের সরকার** দাবি করে, মস্কো প্রায় **২০,০০০ ইউক্রেনীয় শিশু**কে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়েছে ‘মস্তিষ্ক ধোয়া’ করার জন্য।
- 📌 **ডেনিস কস্টেভ** বলেছেন, “আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। তাই আমি এই ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়েছিলাম।”
- 📌 **ইউক্রেনের অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থা** দাবি করে, **৪,০০০-এরও বেশি শিশু** বাধ্যভাবে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে, ডেনিস কস্টেভ খেরসনের একটি বালকাশ্রমে বসবাস করতেন। তার মা কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তিনি বালকাশ্রমে ছিলেন। সেখানে তিনি নাটকীয় ক্লাবে অংশ নিতেন এবং তার চমৎকার বক্তৃতা ও অভিনয় ক্ষমতা তাকে রাশিয়ান টেলিভিশনের জন্য ভিডিওতে অভিনয় করতে বাধ্য করে। তিনি বলেছেন, “রাশিয়ান টেলিভিশনের জন্য ভিডিওতে অভিনয় করতে অস্বীকার করলে শারীরিক নির্যাতন বা কারাগারে পাঠানো হবার আশঙ্কা ছিল।”
২০২২ সালের শেষের দিকে, ইউক্রেনের অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী বালকাশ্রমের শিশুদেরকে ক্রিমিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রতিদিন রাশিয়ান জাতীয় সঙ্গীত শুনত এবং প্রতিটি মঙ্গলবার রাশিয়ান পতাকা উত্তোলন করা হত। ডেনিস বলেছেন, “তারা বালকদেরকে তাদের মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখত। তাদেরকে কোনো ভালো-মন্দের ব্যাপারে বোঝানো হত না। কিছু সময়ের মধ্যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাশিয়ান নীতিগুলো গ্রহণ করতে শুরু করত।”
ডেনিস জানান, তিনি ক্রিমিয়ায় থাকাকালীন একজন কিশোরকে দেখেছিলেন যিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। ইউক্রেনের সরকার দাবি করে, মস্কো প্রায় **২০,০০০ ইউক্রেনীয় শিশু**কে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়েছে ‘মস্তিষ্ক ধোয়া’ করার জন্য। রাশিয়া এই দাবিকে অস্বীকার করে এবং বলেছে যে শিশুদেরকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, **৮৪ জন ইউক্রেনীয় বালক** ২০২৩ সালে ক্রিমিয়ায় থাকতেন। ইউক্রেনের অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, **৪,০০০-এরও বেশি শিশু** বাধ্যভাবে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
"রাশিয়ান টেলিভিশনের জন্য ভিডিওতে অভিনয় করতে অস্বীকার করলে শারীরিক নির্যাতন বা কারাগারে পাঠানো হবার আশঙ্কা ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ক্রিমিয়া (রাশিয়া-অধিকৃত), খেরসন (ইউক্রেন), কিয়েভ (ইউক্রেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডেনিস কস্টেভ, আইভার ডেল (নরওয়েজিয়ান হেলসিঙ্কি কমিটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর বয়স, ২০,০০০ শিশু, ৪,০০০ শিশু, ৮৪ বালক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!