📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত পড়বে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জলপথের কারণে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন এবং দেশটির তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বা ভেনেজুয়েলার মতো তেলের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল বলেন, তিনি আশা করেন চলতি বছরে ইরানের যুদ্ধ শেষ হবে। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন এবং দেশটির তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, ভেনেজুয়েলার মতো;
- 📌 ট্রাম্প বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ পড়বে;
- 📌 সৌদি আরবের তেল রপ্তানির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জলপথের কারণে;
- 📌 ট্রাম্প বলেন, হুতি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে;
- 📌 সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ট্রাম্প ‘বন্ধু’ বলেছেন;
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে;
- 📌 ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে;
- 📌 সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার কারণে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে;
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি আশা করেন চলতি বছরে ইরানের যুদ্ধ শেষ হবে। তবে তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ পড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় তেলের বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।
ট্রাম্প বলেন, তিনি শুধু ‘সঠিক চুক্তি’ করবেন। কোনো চুক্তি ‘ভালো না হলে’ তিনি তা করবেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনা করতে ‘প্রতিনিয়ত’ যোগাযোগ করছে। তবে এবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আরেকটি সম্ভাবনার কথাও সামনে এনেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আগস্টে ঘোষিত ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত মার্কিন চুক্তির উদাহরণ দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বের হয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে গিয়ে ভেনেজুয়েলার মতো তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পেয়েছে, তা দিয়ে ‘অনেকবার’ যুদ্ধের খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছে।
ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন—ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠিয়ে এই যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পুরো অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বড় অংশ এখন বাব এল-মান্দেব ও লোহিত সাগরনির্ভর। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
"হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। তারা চায় না আমরা তাদের বিরুদ্ধে যাই। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।"
গত শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথাগুলো বলেন। তবে তিনি হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন, সময় কিংবা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রায় থমকে যেতে বসেছে। ইরান ও অন্যান্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত এক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অঞ্চলটির তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পথের আশপাশে নতুন করে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আয়ারল্যান্ড (ডাবলিন), যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদি আরবের যুবরাজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলমান), নভেম্বর (মধ্যবর্তী নির্বাচন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!