📌 ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় পন্থাই কার্যকর। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়ো না করার কথা জানিয়েছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।" তিনি আরও বলেন, "আমরা খুব ভালোভাবে জিতছি। তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, জনগণকে খুব খারাপভাবে দমন করা হচ্ছে। অনেক প্রতিবাদকারীকে হত্যা করা হচ্ছে। আমার কোনো সময়সূচি নেই; যতটা সময় লাগে ততটাই।"
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়ো না করার কথা জানান
- 📌 তিনি বলেন, "আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।"
- 📌 ট্রাম্প দাবি করেন, অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় পন্থাই কার্যকর
- 📌 ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
- 📌 ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তাড়াহুড়ো না করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।" ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে খুব ভালোভাবে জিতছে এবং ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, "তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, জনগণকে খুব খারাপভাবে দমন করা হচ্ছে। অনেক প্রতিবাদকারীকে হত্যা করা হচ্ছে।"
এই শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে ভিন্ন। তিনি যুদ্ধ শুরু করার পর বারবার বলেছিলেন যে যুদ্ধটি চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা। তবে সেই চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের প্রতি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, "এখন বিষয়টি ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।"
"আমার কোনো সময়সূচি নেই। আমি তাড়াহুড়ো করছি না। একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।"
"আমরা খুব ভালোভাবে জিতছি। তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, জনগণকে খুব খারাপভাবে দমন করা হচ্ছে। অনেক প্রতিবাদকারীকে হত্যা করা হচ্ছে। আমার কোনো সময়সূচি নেই; যতটা সময় লাগে ততটাই।"
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ জনগণের জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরানি রিয়ালের মান এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুদ্ধের আগে দুই মিলিয়ন রিয়াল দিয়ে প্রায় চার কেজি টমেটো, আধা কেজি মুরগির মাংস এবং প্রায় এক লিটার রান্নার তেল কেনা যেত। কিন্তু এখন একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে তার অর্ধেকও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। টমেটোর দাম ৭১ শতাংশ, মুরগির মাংসের দাম ৭৪ শতাংশ এবং রান্নার তেলের দাম ১৭৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইরানকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারবে কিনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে ইরানের ব্যবসায় জড়িত বড় প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্তত ৯০ শতাংশ চীনে যায়, যা তেহরানের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব এনে দেয়।
এই সপ্তাহে যখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা হয় যে কেন তারা চীনের প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, "আমি কেন বৈশ্বিক অর্থ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইব?"
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘর্ষে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলি ইরানের জনগণের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে তা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাধ্য করতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্কট বেসেন্ট, ট্রিটা পার্সি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস, ৬০ দিন, ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ২ মিলিয়ন রিয়াল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!