📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তাকারী যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি ও ইরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেন ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে কেন্দ্র করে একটি ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে বা ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক শাস্তি’ আরোপ করা হবে। নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমার চেয়ে বড় সুযোগ আর কেউ দেয়নি। দুঃখজনকভাবে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ট্রাম্প ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক শাস্তির’ হুমকি দেন
- 📌 তিনি ইরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা (তেল চোরাচালান, মানি এক্সচেঞ্জ, জাহাজ নিবন্ধন) পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেন
- 📌 ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন
- 📌 তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (৮৬ বছর) যুদ্ধ শুরুর আগেই নিহত হন
- 📌 মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে কেন্দ্র করে একটি ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে বা ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক শাস্তি’ আরোপ করা হবে। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমি ঘোষণা করছি, কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান! এটি নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্নতা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশ নিজেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে।’ ট্রাম্প তেল চোরাচালান, অর্থ বিনিময় ব্যবস্থা, মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা চলছে না, কিংবা কোনো আলোচনা নির্ধারিতও নেই।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (৮৬ বছর) নিহত হন। ইরান পাল্টা হামলা চালালে যুদ্ধ ছয় মাসের কাছাকাছি পৌঁছায়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কয়েক মাস ধরে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে, যার লক্ষ্য ইরানের অর্থের জোগান বন্ধ করা।
‘আমাদের সব মিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং ইরানের হুমকিকে পরাজিত করতে হবে। এই উন্মাদরা এখন চাপে রয়েছে, এবং এসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপ তাদের এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস চালানোর সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে।’ — ডোনাল্ড ট্রাম্প
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি (যুদ্ধ শুরুর তারিখ), ৮৬ বছর (খামেনির বয়স), ৬০ দিন (যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!