📌 টেকনাফের বিজিবির উদ্যোগে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন মুক্তিপ্রাপ্তরা। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলের সংখ্যা ৪৩৪ জন
টেকনাফের বিজিবির দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন রোহিঙ্গা জেলে রয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিজিবির উদ্যোগে নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে জেলেদের গ্রহণ করা হয় এবং পরে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজিবির উদ্যোগে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
- 📌 জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন
- 📌 আটক জেলেদের নিয়মিত মারধর ও অল্প ভাত দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন তাঁরা
- 📌 বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হন
- 📌 এ পর্যন্ত ৩৪৮ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে
📰 বিস্তারিত
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া বেশ কিছু বাংলাদেশি জেলে অসচেতনভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় আরাকান আর্মি তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থানে অথবা জেলখানায় সাজা দিয়ে আটক রাখা হয়।
ফেরত আসা জেলেরা দেশে ফিরে তাঁদের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁরা জানান, আটকের পর তাঁদের নিয়মিত মারধর করা হতো। দিনে দুই বেলা অল্প পরিমাণ ভাত দেওয়া হতো। ঘর নির্মাণ, কৃষিকাজ, মাটি কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রমের করানো হতো। কাজ করতে না চাইলে মারধর করা হতো। ফেরত আসা জেলেদের কেউ আট মাস, আবার কেউ প্রায় দুই বছর ধরে বন্দি ছিলেন।
বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
"মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির উদ্যোগে আটক জেলেদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেকনাফ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩৪ জন জেলে আটক, ৩৪৮ জন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!