📅 ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

সুপার এল নিনো: বিশ্বব্যাপী বন্যা, শুষ্কতা ও তাপের ঝুঁকি কোথায় বেশি?

সুপার এল নিনো: বিশ্বব্যাপী বন্যা, শুষ্কতা ও তাপের ঝুঁকি কোথায় বেশি?

📷 ছবি: আল জাজিরা

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 Al Jazeera ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 প্যাসিফিক মহাসাগরে সুপার এল নিনো গঠিত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবর্তন আনতে পারে। এনওএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হয়ে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে পরিচিত। এফডাব্লিউপি জানিয়েছে, এতে ২০২৭ সালের শেষে ৪৯ মিলিয়ন বেশি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে

প্যাসিফিক মহাসাগরে গঠিত সুপার এল নিনো বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এল নিনোর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) অতিক্রম করেছে, ফলে এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বা ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে পরিচিত। এই এল নিনো ২০২৬ সালের জুন মাসে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের প্রথম দিকে শীর্ষে পৌঁছাতে পারে এবং মার্চ থেকে মে ২০২৭ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 সুপার এল নিনো হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী বন্যা, শুষ্কতা ও তাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
  • 📌 ২০২৭ সালের শেষে ৪৫টি দেশে ২২৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৭৪ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে, যার মধ্যে ৪৯ মিলিয়ন নতুন মানুষ।
  • 📌 ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মৌসুমী বর্ষণ ১৫% কম হয়েছে, যা খাদ্য উৎপাদনকে বিপদে ফেলেছে।
  • 📌 ইন্দোনেশিয়াতে ৫,০১৯টি গরম পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যা বন্যা ও আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
  • 📌 ২০২৭ সাল বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে, কারণ এল নিনো তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলবে।

📰 বিস্তারিত

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়ার প্যাটার্ন, যা প্যাসিফিক মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সাধারণত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘটে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে এবং সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসে শুরু হয়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে শীর্ষে পৌঁছায়। এটি সর্বোচ্চ ১৮ মাস স্থায়ী হতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা। অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় শুষ্কতা এবং বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি আনতে পারে।

বিশেষত, পূর্ব আফ্রিকায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%। এতে অঞ্চলের ৭০% বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে, যা বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর ও উত্তর পেরুর উপকূল এবং দক্ষিণ ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও উত্তর-পূর্ব আর্জেন্টিনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় শুষ্কতা বাড়বে। ভারত ও পাকিস্তানের গ্রীষ্মকালীন বর্ষণ ১ জুন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ের ১৫% কম হয়েছে, যা খাদ্য উৎপাদনকে বিপদে ফেলেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৫,০১৯টি গরম পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সুমাত্রা ও কালিমান্তান সর্বাধিক বিপদগ্রস্ত। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ও পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় গড়ের কম বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আগুনের ঝুঁকি বাড়বে। দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া পরিষদ জানিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে গড়ের কম বৃষ্টিপাত এবং গড়ের বেশি তাপমাত্রা থাকবে।

খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও এল নিনোর প্রভাব মারাত্মক। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (এফডাব্লিউপি) জানিয়েছে, এল নিনো ২০২৭ সালের শেষে ৪৫টি দেশে ৪৯ মিলিয়ন নতুন মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে, যা মোট সংকটগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২২৫ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ২৭৪ মিলিয়ন করে দেবে। পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা অঞ্চল সর্বাধিক প্রভাবিত হবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, মৌসুমী ফসল যেমন গম, ধান এবং অন্যান্য বৃষ্টিপাত নির্ভর ফসল সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে। শুষ্কতা দক্ষিণ আফ্রিকা, সাহেল, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফসলের উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

"এল নিনো বিশ্বাসঘাতকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার একটি বিশাল হুমকি, যারা ইতিমধ্যে সংকটে আটকে আছে।" — কার্ল স্কাউ, এফডাব্লিউপির সহ-প্রধান নির্বাহী

এল নিনো বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় গড়ের বেশি তাপমাত্রা থাকবে। এছাড়াও, ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো এক বছরে ২০২৪ সালের রেকর্ড ভাঙতে পারে, কারণ এল নিনো তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলবে।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কার্ল স্কাউ (এফডাব্লিউপি), এনওএএ, ডব্লিউএমও
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৫%, ৯০%, ৭০%, ৫,০১৯, ৪৯ মিলিয়ন, ২৭৪ মিলিয়ন

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖