📌 মরমি সাহিত্যের অন্যতম ধ্রুপদি গ্রন্থ ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ থেকে উঠে এসেছে সুফি সাধক ইব্রাহিম আল-খাওয়াসের জীবনের অলৌকিক ঘটনাবলি। তাঁর আল্লাহনির্ভরতা ও মরুভূমির বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত হয়েছে এই সাহিত্যিক বিবরণ
মরমি সাহিত্যের অন্যতম প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’র মাধ্যমে সুফি সাধক ইব্রাহিম আল-খাওয়াসের জীবনের বিস্ময়কর ঘটনাবলি উঠে এসেছে। ফারসি ভাষায় রচিত এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ‘মুসলিম সেইন্টস অ্যান্ড মিস্টিকস’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরির সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে বাংলায় অনূদিত হয়েছে এই গ্রন্থটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ সুফি সাধকদের জীবনীভিত্তিক একটি ধ্রুপদি গ্রন্থ, যার ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে
- 📌 ইব্রাহিম আল-খাওয়াস ছিলেন জুনায়েদ বাগদাদীর সহচর এবং আল্লাহনির্ভরতার জন্য বিখ্যাত সুফি সাধক
- 📌 তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে মরুভূমিতে খিজিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সিংহের চিকিৎসা ও অলৌকিক খাদ্যের আবির্ভাব
- 📌 তিনি সর্বদা সঙ্গে রাখতেন একটি সুই, সুতা, পানির পাত্র ও কাঁচি — যা আল্লাহনির্ভরতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল
- 📌 তাঁর বর্ণিত ঘটনাগুলো ঐতিহাসিকভাবে সর্বসম্মত নয়, বরং সাহিত্যিক বয়ান হিসেবে বিবেচিত
📰 বিস্তারিত
ফরিদ উদ্দিন আত্তারের ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ সুফি সাধকদের জীবনী ও তাঁদের অলৌকিক ঘটনাবলির একটি অন্যতম ধ্রুপদি গ্রন্থ। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরি এই গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করেন ইংরেজি ভাষায়। পরবর্তীকালে আইওয়ার ওমফালোস্কেপসিস প্রকাশনা থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে এই গ্রন্থটি।
গ্রন্থটির একটি পর্ব ইরাকের প্রাচীন নগরী সামাররার সুফি সাধক ইব্রাহিম আল-খাওয়াসের জীবনী নিয়ে রচিত। তিনি ছিলেন জুনায়েদ বাগদাদীর একজন সহচর এবং আল্লাহনির্ভরতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে মরুভূমিতে খিজিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সিংহের চিকিৎসা ও অলৌকিক খাদ্যের আবির্ভাব।
ইব্রাহিম আল-খাওয়াস তাঁর জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, একবার তিনি মরুভূমিতে ভ্রমণকালে আনন্দে উদ্ভ্রান্ত এক যুবতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যুবতী তাঁকে বলেন, ‘খাওয়াস, তোমার চোখ বন্ধ করো!’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি প্রেমে পড়েছি, আর প্রেমিক তার চোখ বন্ধ করে না।’
তিনি আরও বর্ণনা করেছেন, একবার তিনি মরুভূমিতে খিজিরকে একটি উড়ন্ত পাখির রূপে অবলোকন করেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে তিনি মাথা নিচু করেন, যার ফলে খিজির তাঁর কাছে আসেন এবং বলেন, ‘যদি তুমি আমার দিকে তাকাতে, তবে আমি তোমার ওপর অবতীর্ণ হতাম না।’
“হে আল্লাহ, তোমার দৃষ্টিতে মর্যাদাবান এবং যাঁর ধর্ম সত্য, এই বুজুর্গের উসিলায় তুমি খাবার পাঠাও, যেন তাঁর সামনে আমাকে লজ্জিত না হতে হয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সামাররা, ইরাক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইব্রাহিম আল-খাওয়াস, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, এ জে আরবেরি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮টি পর্ব, ২৯১ হিজরি (৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!