📌 সুদানের যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিল্পীদের মধ্যে আওয়াদ হারুন এবং আসিম আব্দেলআজিজের গল্প। তাদের শিল্প ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে অবদান রেখেছে ইউনেস্কো ও স্থানীয় সংগঠন।
সুদানের লম্বা যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিল্পীদের মধ্য থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন শিল্পীরা। ৪৫ বছর বয়সী আওয়াদ হারুন, যিনি খার্তুম উত্তর জেলার আল-হালফায়া থেকে পালিয়ে এসেছেন, তার জীবনের সবকিছুই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদান সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) এর সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি তার স্ত্রী ও পুত্রসহ পোর্ট সুদানে আশ্রয় নেন। তার সাথে ছিল মাত্র দুই শার্ট, দুই জোড় প্যান্ট, দুই বই এবং কিছু টুকরো কাগজ। তিনি আশা করতেন শীঘ্রই ফিরে যেতে পারবেন, কিন্তু এখনো তিনি তার জীবন পুনরুদ্ধার করছেন দূরে থেকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আওয়াদ হারুন** (৪৫) খার্তুম উত্তর থেকে পালিয়ে পোর্ট সুদানে আসেন, যুদ্ধে তার শিল্পকর্মের সরঞ্জাম ও কাজের স্থান ধ্বংস হয়ে যায়।
- 📌 **আহালিনা সাংস্কৃতিক গ্রুপ** প্রতিষ্ঠা করে ২০১৩ সাল থেকে শিশুদের মাধ্যমে শান্তি ও সামাজিক ঐক্য প্রচার করছেন তিনি।
- 📌 **৩০ মিলিয়ন ডলার** অর্থের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ইউনেস্কো ও স্থানীয় সংগঠন শিল্পীদের সহায়তা করছে।
- 📌 **১১২ জন শিল্পী** আশ্রয় পেয়েছেন পোর্ট সুদানের শিল্পী ও লেখক ইউনিয়নের মাধ্যমে।
- 📌 **৩৫০ জন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী**কে সহায়তা করেছে ইউনেস্কোর প্রকল্প।
- 📌 **৩১ বছর বয়সী আসিম আব্দেলআজিজ** এল ওবেইদ থেকে পালিয়ে পোর্ট সুদানে এসে একাকী আশ্রয় নেন।
- 📌 **গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে** শিল্পীরা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
আওয়াদ হারুন তার শিল্পকর্মের সরঞ্জাম ও কাজের স্থান হারানোর পরও তিনি তার শিল্পী জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, “আমার সরঞ্জাম হারানোর অর্থ আমার দক্ষতা হারানো নয়, এবং কাজের স্থান হারানোর অর্থ আমার সৃষ্টিশীলতা হারানো নয়।” তিনি পোর্ট সুদানের একটি পুরাতন স্কুলে আশ্রয় নেন, যেখানে তিনি ও অন্যান্য শিল্পীরা স্কুলটিকে পরিবারদের জন্য উপযোগী করে তোলার কাজ করছেন। তবে এখনও তাদের বসবাসের জন্য নিশ্চিততা নেই।
সুদানের সাংস্কৃতিক জীবনে যুদ্ধের প্রভাব মারাত্মক। ইউনেস্কো অনুমান করেছে, সুদানের সাংস্কৃতিক খাতের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলার অর্থের ঘাটতি রয়েছে। এই সংখ্যার পিছনে রয়েছে শিল্পীদের ব্যক্তিগত ক্ষতি — যুদ্ধে নিহত শিল্পীরা, তাদের স্টুডিও, গ্যালারী, শিল্পকর্ম এবং সৃষ্টিকর্মের সরঞ্জাম হারানো। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইউনেস্কো জানিয়েছে, পোর্ট সুদানের শিল্পী ও লেখক ইউনিয়ন ১১২ জন শরণার্থী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ইউনেস্কোর প্রকল্পে ৩৫০ জন শিল্পী, মহিলা, শিশু ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত সাংস্কৃতিক কর্মীদের সহায়তা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুদানের সাংস্কৃতিক জীবন সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
৩১ বছর বয়সী আসিম আব্দেলআজিজ, যিনি উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল ওবেইদ থেকে পালিয়ে এসেছেন, তিনি পোর্ট সুদানে একাকী আশ্রয় নেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ তার জীবনকে উচ্ছেদ করেছে এবং তার কর্মজীবনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তিনি তার সঙ্গীতের মাধ্যমে সুদানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়কে একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্থানীয় শিল্পী ও লেখক ইউনিয়ন, ইউনেস্কো এবং স্থানীয় সংগঠনের সাথে কাজ করছেন।
আহালিনা সাংস্কৃতিক গ্রুপের মotto “From the ashes, we will rise” — এই উক্তিটি আওয়াদ হারুনের জন্য আর একটি স্মরণীয় কথা। তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যেও তিনি সৃষ্টিকর্ম চালিয়ে যাবেন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখবেন।
"আমার সরঞ্জাম হারানোর অর্থ আমার দক্ষতা হারানো নয়, এবং কাজের স্থান হারানোর অর্থ আমার সৃষ্টিশীলতা হারানো নয়।"
"এখনও আমাদের বসবাসের জন্য নিশ্চিততা নেই, এভাবেই আমরা অজ্ঞাতভাবেই ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছি।"
"From the ashes, we will rise"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পোর্ট সুদান, সুদান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আওয়াদ হারুন, আসিম আব্দেলআজিজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ মিলিয়ন ডলার (অর্থের ঘাটতি), ১১২ জন শরণার্থী শিল্পী, ৩৫০ জন সহায়তা পেয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!