📌 সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে তীব্র সংঘাত ও মৌসুমি বন্যায় দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এল ওবেইদ শহরের বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ লাখে
সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও মৌসুমি বন্যায় নতুন করে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। এল ওবেইদ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে বারবার ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইওএমের তথ্যমতে, কর্দোফান অঞ্চলে নতুন করে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে
- 📌 এল ওবেইদ শহরের বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত
- 📌 এল ওবেইদের শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুতির হার বেড়েছে ২৫ শতাংশ
- 📌 আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানান, সুদানে মানবিক সংকট বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ
- 📌 ব্লু নাইল রাজ্যে ৭৮ হাজার এবং ওয়েস্ট দারফুরে ১৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত
- 📌 নর্থ দারফুরের তাওয়িলা এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে ১ হাজার ৩৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে তীব্র সংঘাত ও মৌসুমি বন্যার কারণে নতুন করে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এল ওবেইদ শহরের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘সুদানজুড়ে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা পরিবারগুলো এখন পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ হারিয়ে ধ্বংসাত্মক বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে।’
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এল ওবেইদ শহরের শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে বারবার ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। ফলে পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাম্প চালানো, হাসপাতাল পরিচালনা এবং টেলিফোন লাইন সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আইওএম জানিয়েছে, ব্লু নাইল রাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। নর্থ দারফুরের তাওয়িলা এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।
‘সুদান বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি মোকাবিলা করছে। সংঘাত, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও বন্যার সম্মিলিত প্রভাব হাজার হাজার পরিবারকে তাদের সামর্থ্যের সীমার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।’ — অ্যামি পোপ, মহাপরিচালক, আইওএম
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ৮৬ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ৪২ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
এল ওবেইদ শহরে যাওয়ার প্রধান সড়কে আল জাজিরার সাংবাদিক আলমিকদাদ আলরুহাইদ জানান, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) ড্রোন সেনাবাহিনীর যানবাহন, তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী ট্রাকে হামলা চালিয়েছে। শহরটির যুদ্ধ দীর্ঘতম অবরোধগুলোর একটির মুখোমুখি হলেও আরএসএফ শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থান ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধ শুরুর আগে এল ওবেইদের জনসংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার। তবে বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বেড়ে ৩৪ লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩৯ হাজার শিশু এল ওবেইদে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুদানের কর্দোফান অঞ্চল, এল ওবেইদ শহর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অ্যামি পোপ (আইওএম মহাপরিচালক), আলমিকদাদ আলরুহাইদ (সাংবাদিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত, ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ৭৮ হাজার, ১৮ হাজার, ১ হাজার ৩৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!