📌 অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্টিভ জবসের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। কিন্তু সেই ধাক্কাই তাঁকে পৌঁছে দেয় পিক্সারে, যার হাত ধরে নির্মিত হয় বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘টয় স্টোরি’। তাঁর জীবনের এই অধ্যায়ই প্রমাণ করে, ব্যর্থতা কীভাবে সাফল্যের দ্বার খুলে দেয়
বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা স্টিভ জবসের নাম শোনামাত্রই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অ্যাপলের আইফোন, ম্যাকিন্টোশ কিংবা আইপ্যাডের মতো প্রযুক্তিপণ্যের ছবি। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের গল্পটি লুকিয়ে রয়েছে অন্য জায়গায়—সিনেমার জগতে। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘টয় স্টোরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পঞ্চম কিস্তি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। তবে জানেন কি, এই চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্টিভ জবসের জীবনের সবচেয়ে বড় ‘আশীর্বাদ’?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৫ সালে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকেই বহিষ্কার করা হয়
- 📌 বহিষ্কারের পর তিনি জর্জ লুকাসের কাছ থেকে কিনে নেন পিক্সার নামের একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান
- 📌 পিক্সারের প্রাথমিক ব্যবসা ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস কম্পিউটার ও সফটওয়্যার নির্মাণ
- 📌 জন ল্যাসেটারের নেতৃত্বে নির্মিত ‘লাক্সো জুনিয়র’ নামের অ্যানিমেশন জবসকে অনুপ্রাণিত করে
- 📌 ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টয় স্টোরি’ ছিল বিশ্বের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কম্পিউটার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র
- 📌 চলচ্চিত্রটির অভাবনীয় সাফল্য জবসের আর্থিক ভাগ্য পাল্টে দেয় এবং তাঁকে আবারও শীর্ষে নিয়ে আসে
📰 বিস্তারিত
১৯৮৫ সাল। স্টিভ জবস তখন মাত্র ৩০ বছরের তরুণ উদ্যোক্তা। তাঁর নেতৃত্বেই অ্যাপল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটার বাজারে এসেছে মাত্র এক বছর আগে। কিন্তু সেই সময়েই অ্যাপলের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। জন স্কালি নামে এক নির্বাহীকে তিনি নিজেই অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ক্রমেই তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে থাকে। অবশেষে অ্যাপলের পরিচালনা পর্ষদ স্কালির পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে জবসকে তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান থেকেই বিদায় নিতে হয়।
এই ঘটনা জবসের জীবনে ছিল এক ভয়াবহ ধাক্কা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তন বক্তৃতায় তিনি সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কয়েক মাস তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি তিনি সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উপলব্ধি করেন, সেই ধাক্কাই তাঁর জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর ভাষায়, অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াটা ছিল তাঁর জীবনের ‘বেস্ট থিং’।
এই ধাক্কা থেকেই জবস নতুন করে শুরু করার সুযোগ পান। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নেক্সট নামের একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে তিনি জর্জ লুকাসের কাছ থেকে কিনে নেন তাঁর লুকাসফিল্মের কম্পিউটার গ্রাফিকস বিভাগ। পরে সেই বিভাগটিকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন—নাম দেওয়া হয় পিক্সার। তখন পিক্সারে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৪০ জন কর্মী। এড ক্যাটমুল, অ্যালভি রে স্মিথ ও জন ল্যাসেটারের মতো প্রতিভাবানরা সেখানে কম্পিউটার গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছিলেন।
পিক্সারের প্রাথমিক ব্যবসা ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস কম্পিউটার ও সফটওয়্যার নির্মাণ। তাদের অন্যতম প্রধান পণ্য ছিল পিক্সার ইমেজ কম্পিউটার, যার মাধ্যমে চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন করা হতো। কিন্তু ব্যবসা প্রত্যাশামতো চলছিল না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ছিল অনিশ্চয়তার মুখে।
ঠিক সেই সময়েই জন ল্যাসেটারের নেতৃত্বে নির্মিত হয় ‘লাক্সো জুনিয়র’ নামের একটি অ্যানিমেশন। ছোট্ট ডেস্ক ল্যাম্পের দুই চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অ্যানিমেশনটি দেখিয়ে দেয়, কম্পিউটার দিয়ে শুধু গ্রাফিকস নয়, চরিত্র ও আবেগ ফুটিয়ে তোলাও সম্ভব। এই কাজটি জবসকে পিক্সারের অ্যানিমেশন সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও বিশ্বাসী করে তোলে।
এরপর পিক্সার বিজ্ঞাপন, ছোট অ্যানিমেশন ও কম্পিউটার গ্রাফিকসের কাজ করতে থাকে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু। অবশেষে ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় বিশ্বের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কম্পিউটার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘টয় স্টোরি’। চলচ্চিত্রটির অভাবনীয় সাফল্য শুধু পিক্সারকেই নয়, স্টিভ জবসের জীবনকেও পাল্টে দেয়। চলচ্চিত্রটির আয় ছিল প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে জবসের আর্থিক ভাগ্য ফিরে আসে। তিনি আবারও শীর্ষে পৌঁছে যান। এমনকি পরবর্তীতে তিনি অ্যাপলেও ফিরে আসেন।
"অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ‘আশীর্বাদ’। সেই ধাক্কাই আমাকে নতুন করে শুরু করার স্বাধীনতা দিয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলিকন ভ্যালি, ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টিভ জবস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর, ৪০ কর্মী, ৩৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!