📌 দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করেও ভিসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে
দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিপুল পরিমাণ টিউশন ফি পরিশোধ করেও ভিসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে দেশটির দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করেও ভিসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- 📌 শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরতের দাবিতে দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে
- 📌 আদালতে ক্লেইম দাখিল করেছেন বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবী
- 📌 প্রাথমিকভাবে ২২৫ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে দাবি দাখিল করা হলেও পরবর্তীতে আরও ১৮ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৪৩ জনের দাবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য আদালতে আবেদন করায় আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করেও ভিসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে দেশটির দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশেরই বাড়ি সিলেট বিভাগে।
বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে গত ২৮ আগস্ট দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে এই ক্লেইম দাখিল করা হয়। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পান, সেজন্য কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মোট ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে এই আইনি লড়াই চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাওনা আদায়ে উই কেয়ার এডুকেশন ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় এক আইনজীবীকে সাথে নিয়ে ২৮ আগস্ট দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে এ দাবি দাখিল করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে ২২৫ জনের পক্ষে দেউলিয়া আদালতে অর্থ ফেরতের আবেদনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ অন্যান্য নথি প্রস্তুত করা হয়। তবে গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে পুনর্গঠন কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আবেদন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে এবং তা বিক্রি বা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করা সম্ভব। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করায় আইনি কৌশলেও পরিবর্তন আসে। কোরিয়ান আইনজীবীর পরামর্শে দেউলিয়া আদালতের পরিবর্তে সরাসরি রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে দাবি জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে ২৭ আগস্ট সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে যান আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ও এডুকেশন কনসালটেন্সি ‘উইকেয়ার’-এর ম্যানেজার জাহিদ হাসান। তারা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সার্বিক আইনি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। দূতাবাস থেকেও শিক্ষার্থীদের পক্ষে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিলের পরামর্শ দেয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে পূর্বপ্রস্তুতকৃত কাগজপত্র সংশোধন করে ২৮ আগস্ট ২২৫ জন ও নতুন করে আরও ১৮ জনসহ মোট ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাওনা অর্থের দাবি রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে জমা দেয়া হয়। অনলাইনে ক্লেইম ফাইল করার পাশাপাশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ সেট হার্ডকপিও জমা দেয়া হয়েছে।
‘শিক্ষার্থীদের পক্ষে সঠিক সময়ে আদালতে দাবি দাখিল করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ২৪৩ জনের ক্লেইম জমা দিয়েছি। আদালতের প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমরা আশাবাদী এবং শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আইনগত সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪৩ জন শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!