📌 দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের অস্থিরতায় নতুন বিনিয়োগকারীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন। প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ং-এর উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে স্টক কেনায় উৎসাহিত হলেও এআই চিপের চাহিদা কমে যাওয়ায় সূচক ৪০ শতাংশ পতন। বিবাহ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ায় এক তরুণীর প্রশ্ন: 'অনুষ্ঠান ছোট করব নাকি হানিমুনই বাদ দেব?'
সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া – চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার যখন এআই চাহিদার জোয়ারে ভাসছিল, তখন ইয়ুন-বি নামের এক সরকারি কর্মচারী তার সঞ্চয় থেকে বেশিরভাগ অর্থ তুলে নিয়ে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করেন। ত্রিশোর্ধ্ব ইয়ুন-বি এসকে হাইনিক্সসহ বেশ কয়েকটি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন, যার মধ্যে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেমিকন্ডাক্টর ট্র্যাকিং ফান্ড। তার লক্ষ্য ছিল আগামী বছরের এপ্রিলে বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। কিন্তু জুন মাসের শীর্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপিআই প্রায় ৪০ শতাংশ পতনের মুখে পড়লে ইয়ুন-বির পোর্টফোলিও থেকে কয়েক হাজার ডলার হারিয়ে যায়, যার ফলে তার বিবাহ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ইয়ুন-বি জানান, 'এখন আমি ভাবছি অনুষ্ঠান ছোট করব নাকি হানিমুনই বাদ দেব।' তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়ুন-বি দক্ষিণ কোরিয়ার লাখ লাখ নতুন বিনিয়োগকারীর একজন, যারা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার উত্থানের সময় বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও দ্রুতই তা হারিয়ে ফেলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপিআই চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও জুন মাসের শীর্ষ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে।
- 📌 নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ং-এর উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে স্টক কেনায় উৎসাহিত হন।
- 📌 সরকারের অনুমোদনে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ লিভারেজড ইটিএফ চালু হওয়ায় বাজারের অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
- 📌 প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ং-এর জনপ্রিয়তা পাঁচ সপ্তাহ ধরে কমে ৪৩ শতাংশে নেমে আসে, যার অন্যতম কারণ শেয়ারবাজারের পতন।
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের অস্থিরতা নতুন বিনিয়োগকারীদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ং-এর নেতৃত্বে সরকার স্টক মার্কেটকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মধ্যে ছিল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ লিভারেজড ইটিএফ-এর অনুমোদন দেওয়া। এসব পদক্ষেপের ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে স্টক কেনায় উৎসাহিত হন নতুন বিনিয়োগকারীরা।
কোসপিআই সূচক চলতি বছরের শুরুতে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসের শেষ নাগাদ ১০১ শতাংশ লাভ করে। সূচকটি জানুয়ারিতে ৫,০০০ পয়েন্ট এবং মে মাসে ৮,০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। তবে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ সূচকটি আবার প্রায় ৫,৫৯৫ পয়েন্টে নেমে আসে।
বাজারের অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণে সরকারের নীতির সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার এককভাবে দায়ী নয়। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্স নামের দুই বিশ্বখ্যাত চিপ নির্মাতা কোম্পানি সূচকের অর্ধেকের বেশি অংশ নিয়ে নেওয়ায় কোসপিআই-এর ভাগ্য মূলত একটি খাতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
"সরকারের একক স্টক লিভারেজড ইটিএফ চালু করার সিদ্ধান্ত একটি স্পষ্ট নীতি ব্যর্থতা।"
"যুবসমাজ সরকারের উদ্দেশ্যের উপর বিশ্বাস রেখে বিনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু সরকার নিজেই যে ফাঁদ পেতেছিল তা থেকে তারা ঋণ ও মানসিক আঘাত নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, যা তারা কখনোই ভুলতে পারবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিয়ং, ইয়ুন-বি
- 🔢 সূচকের পতন: প্রায় ৪০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!