📌 সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সফর করবেন। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতি ও বৈশ্বিক জটিলতার মাঝে এই সফর কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে
সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সফর করবেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারত সফর করছেন শি জিনপিং। সেই সময় তিনি চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
- 📌 ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারত সফর করছেন শি জিনপিং।
- 📌 গালওয়ান সংঘর্ষের পর ২০২০ সালে ভারত-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা কমেছে।
- 📌 ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নতির আশা থাকলেও ভিসা বিলম্ব ও শুল্কের কারণে বাধা রয়েছে।
- 📌 মোদী ও শি জিনপিং ২০২৪ সালে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বৈঠক করে এলএসি থেকে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি স্বাগত জানান।
📰 বিস্তারিত
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবার পাশাপাশি শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে কূটনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা এই সফরের মাধ্যমে আরো ত্বরান্বিত হতে পারে। পাশাপাশি ব্রিকস সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে উষ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “২০১৯ সালের পর শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর, মোদীর দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করছে।” তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি আশা করা যেতে পারে না। ব্যবসায়ীরা এখনো ভিসা বিলম্ব, শিল্প সরঞ্জামের উপর বিধিনিষেধ ও বিনিয়োগ স্থগিতের সমস্যায় পড়েছেন।
২০২০ সালে গালওয়ানে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীন দাবি করে তাদের মাত্র চারজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত বছর মোদী চীনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দেন। সেই সময় শিরোনামে উঠে আসে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে মোদীর বৈঠকের প্রসঙ্গ।
বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভি পন্থের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভরসার যোগ্য নয়’ নীতি দুই দেশকে একত্রিত করেছে। তিনি বলেন, “দুই প্রতিবেশী দেশেরই একে অন্যকে প্রয়োজন এবং সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই নরম মনোভাব দেখিয়েছে।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচাতে প্রথম সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সাতই সেপ্টেম্বর সীমান্তে চীনের দিকে থাকা দামাইয়ে দ্বিতীয় বৈঠক হয়। গত বছর সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হয় এবং ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়।
"এখন দু'পক্ষের তরফে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সমস্যা আর না বাড়ে। ২০২০ সালের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে এবং সীমান্ত সম্পর্কের ওপর আস্থা তৈরি হয়। এজন্য ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যে বৈঠকও হয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শি জিনপিং, নরেন্দ্র মোদী, হর্ষ ভি পন্থ, রণধীর জয়সওয়াল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর (সফরের ব্যবধান), ১২-১৩ সেপ্টেম্বর (সফর তারিখ), ২০ জন (গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত ভারতীয় সেনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!