📌 সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনিক ৪-৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহে বাধা পড়েছে। এতে সৌদি তেলের রফতানি ৭০% কমে ২.১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি ডার্ক শিপিং এবং স্টোরেজ টার্মিনাল থেকে সরবরাহের বিকল্প নেওয়া হচ্ছে
সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যবস্থায় নতুন বাধা সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ড্রোন হামলায় দেশের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনিক ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহে বাধা পড়েছে। এতে বিশ্বের তেল বাজারে প্রভাব পড়ছে। পাইপলাইনটি ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা পূর্ব সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র থেকে লাল সাগরের বন্দর যনবু পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পাইপলাইন বন্ধের ফলে হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে তেল রফতানির উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **পাইপলাইন আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত**: সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনিক ৪-৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহে বাধা পড়েছে।
- 📌 **রফতানি ৭০% কমে**: জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক ৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করত সৌদি আরব, এখন সেটি নেমে এসেছে ২.১ মিলিয়ন ব্যারেলে।
- 📌 **হরমুজ স্ট্রেটের উপর নির্ভরতা**: পাইপলাইন বন্ধের কারণে সৌদি আরব তেল রফতানি বাড়াতে হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে যাচ্ছে, যা উচ্চ খরচ এবং আক্রমণের ঝুঁকি বহন করছে।
- 📌 **ডার্ক শিপিং এবং স্টোরেজ টার্মিনাল**: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব তেল রফতানি বাড়াতে ডার্ক শিপিং (AIS ট্র্যাকিং বন্ধ করে যাতায়াত) এবং মিশর ও সৌদি আরবের স্টোরেজ টার্মিনাল থেকে সরবরাহের বিকল্প নিচ্ছে।
- 📌 **রিপেয়ার সময় অজানা**: এপি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইন রিপেয়ার করতে ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ। এর তেল সরবরাহের বাধা বিশ্বের শক্তি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের তেল রফতানি মূলত দুইটি উপায়ে পরিচালিত হয়: গলফের মাধ্যমে হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে এবং লাল সাগরের মাধ্যমে সুয়েজ নালা বা বাব আল-মন্দেব স্ট্রেটের মাধ্যমে। তবে হরমুজ স্ট্রেট বন্ধের কারণে সৌদি আরব বাধ্য হয়ে পূর্বের মতোই তেল রফতানি করতে শুরু করেছে, যা উচ্চ খরচ এবং আক্রমণের ঝুঁকি বহন করছে।
লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা LSEG Data & Analytics-এর গবেষণা বিশেষজ্ঞ রিশি রাজনালা বলেছেন, “পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বন্ধের কারণে সৌদি আরবের বিকল্প খুবই সীমিত। প্রথম বিকল্প হচ্ছে গলফের টার্মিনাল থেকে হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে তেল রফতানি বাড়ানো, যার মধ্যে সোহার (ওমান) এর বাইরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরও অন্তর্ভুক্ত। তবে এই প্রক্রিয়ায় ট্যাঙ্কারের উপলব্ধতা, বীমা খরচ এবং ফ্রেটের মূল্য নির্ধারণ করে রফতানি পরিমাণ নির্ধারিত হয়, যা যুদ্ধের পূর্বের পর্যায়ের তুলনায় অনেক কম।”
লন্ডন ভিত্তিক জাহাজ পরিষেবা কোম্পানি গিবসন শিপব্রোকার্সের পরিচালক রিচার্ড ম্যাথিউস বলেছেন, “হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে তেল রফতানি বাড়ানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানির ফ্রেট খরচ আরও বাড়বে এবং কার্যকারিতা হ্রাস পাবে। এছাড়াও, যনবু থেকে তেল রফতানি বন্ধ থাকার সময়কাল অজানা, যা দ্রুত সমাধানযোগ্য নয়।”
"পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বন্ধের কারণে সৌদি আরবের বিকল্প খুবই সীমিত। প্রথম বিকল্প হচ্ছে গলফের টার্মিনাল থেকে হরমুজ স্ট্রেটের মাধ্যমে তেল রফতানি বাড়ানো, যার মধ্যে সোহার (ওমান) এর বাইরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরও অন্তর্ভুক্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন), হরমুজ স্ট্রেট, যনবু বন্দর, সোহার (ওমান), সুয়েজ নালা, মিশর (এইন সুখনা ও সিদি কেরির টার্মিনাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিশি রাজনালা (LSEG Data & Analytics), রিচার্ড ম্যাথিউস (গিবসন শিপব্রোকার্স)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫ মিলিয়ন ব্যারেল (দৈনিক তেল সরবরাহ বাধা), ৭০% (রফতানি হ্রাস), ৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেল (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি রফতানি), ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল (সেপ্টেম্বর রফতানি), ১২০০ কিলোমিটার (পাইপলাইন দৈর্ঘ্য), ৩৯ কিলোমিটার (হরমুজ স্ট্রেট দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!