📌 রাশিয়ার সরকারি ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের ফোনে গোপন প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে বলে গবেষণা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই অ্যাপের মাধ্যমে সরকার নজরদারি, তথ্য চুরি ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদেরও ম্যাক্স ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে
রাশিয়ার সরকারি ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের ফোনে গোপন প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে বলে গবেষণা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষকদের মতে, এই অ্যাপের মাধ্যমে সরকার নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও সাইবার হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘ভিকোনতাক্তে’ তৈরি এই অ্যাপটি দেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফোনে গোপন প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে বলে গবেষণা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক রয়া এনসাফি।
- 📌 অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ডিভাইস থেকে স্ক্রিনশট, বার্তা, আর্থিক লেনদেন এবং মিনি অ্যাপগুলোর তথ্য অজান্তে সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি ব্যবহারকারীদের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কাউকে বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা রয়েছে।
- 📌 ম্যাক্স অ্যাপের মাধ্যমে রাশিয়ার সরকার সাইবার হামলাও চালাতে পারে বলে গবেষণা নির্দেশ করে।
- 📌 রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও ম্যাক্স ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে।
- 📌 রাশিয়া ইতিমধ্যে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে এবং ম্যাক্সকে তাদের ‘দেশপ্রেমিক বিকল্প’ হিসেবে প্রচার করছে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার সরকারি ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্সের মাধ্যমে সরকার নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি গড়ে তুলেছে। এই অ্যাপটি রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ‘ভিকোনতাক্তে’ তৈরি করেছে, যা রাশিয়ার সরকারের ঘনিষ্ঠ সংস্থা। গবেষণা থেকে জানা যায়, ম্যাক্স অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ডিভাইস থেকে স্ক্রিনশট, বার্তা, আর্থিক লেনদেন এবং মিনি অ্যাপগুলোর তথ্য অজান্তে সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কাউকে বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক রয়া এনসাফি বলেছেন, ম্যাক্স অ্যাপের ক্ষমতা মূলত প্রতিটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকা পুরো মিনি অ্যাপ ইকোসিস্টেমে একটি ‘গোপন প্রবেশদ্বার’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এক দশক ধরে রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেছি। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতে এযাবৎ যেসব কৌশল নিয়েছে, তার মধ্যে ম্যাক্স হলো সবচেয়ে চতুর এবং ভীতিকর একটি মাধ্যম।’
গবেষক দলের মতে, ম্যাক্স অ্যাপের মাধ্যমে রাশিয়ার সরকার সাইবার হামলাও চালাতে পারে। অ্যাপটির মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড প্রবেশের সুযোগ রয়েছে, যা সরকারকে সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করতে সক্ষম করে তুলেছে। এনসাফি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ম্যাক্স হলো যেকোনো সরকারের জন্য অনুকরণীয় একটি নীলনকশা। এটি ইরান, কাজাখস্তান ও ভারতের মতো সরকারগুলো সামনে যা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে, তার এক অত্যাধুনিক রূপ প্রদর্শন করছে।
রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও ম্যাক্স ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মরত বহু নাগরিককে কার্যত এই অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে। রাশিয়ার সরকারি প্রচারণায় ম্যাক্সকে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ‘দেশপ্রেমিক বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে চলতি সময়ে এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপে পরিণত হয়েছে।
"ম্যাক্স হলো সবচেয়ে চতুর এবং ভীতিকর একটি মাধ্যম। এটি ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় একটি নীলনকশা।"
— রয়া এনসাফি, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাশিয়া, মস্কো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রয়া এনসাফি, ভ্লাদিমির পুতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর (রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ গবেষণা সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!