📌 রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত একটি সৈকত সোভিয়েত গুলাগের গণকবরস্থানের উপরে নির্মিত। স্থানীয়রা এটিকে 'চমৎকার জায়গা' বলে মনে করেন, কিন্তু সেখানে ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়। কর্তৃপক্ষ কখনোই এই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রের ইয়েমভার শহরে অবস্থিত একটি সৈকত সোভিয়েত আমলের গুলাগ ব্যবস্থার গণকবরস্থানের উপরে নির্মিত। স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটেন, কিন্তু সেখানে ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হ্রদকে 'চমৎকার জায়গা' বলে মনে করেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, 'পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে'।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত ইয়েমভার সৈকতের নিচে সোভিয়েত গুলাগের গণকবরস্থান রয়েছে, যেখানে ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়।
- 📌 ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই সৈকতের খননের সময় এক্সকাভেটর মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও উদ্ধার করেছিল, কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।
- 📌 স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কখনোই এই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি এবং বিতর্কের সময়ও গুলাগ বন্দিদের দেহাবশেষ হিসেবে স্বীকার করেনি।
- 📌 ২০২১ সালে আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পেয়েছিলেন, যা ১৯৩০-১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের গণকবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- 📌 সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ গুলাগ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখকে রাজনৈতিক কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রের ইয়েমভার শহরে অবস্থিত একটি সৈকত সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার গণকবরস্থানের উপরে নির্মিত। স্থানীয়রা এই হ্রদকে 'চমৎকার জায়গা' বলে মনে করেন, যেখানে গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে ডুব দেওয়ার জন্য আদর্শ। তবে এই হ্রদটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি স্থান খনন করে, যা একসময় সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার যারা শিকার হয়েছিলেন, তাদের গণকবর ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত তীরে মানবদেহের হাড় খুঁজে পান।
১৯৮০-এর দশকে একটি স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি কৃত্রিম হ্রদ ও সৈকত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। খননের সময় একটি এক্সকাভেটর শুধু মাটিই নয়, মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও তুলে আনে। তবুও মস্কো থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। ভূগর্ভস্থ ঝরনার পানি গর্তে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার ইয়েমভার বাসিন্দারা তখন থেকেই সেখানে সাঁতার কাটছেন।
২০২১ সালে নিকটবর্তী একটি ঘাসের আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে দেহাবশেষগুলোর বয়স অন্তত ১৫ বছর এবং সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তারা বলেন, 'অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে' কোনো মামলা শুরু করেনি। তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যেখানে হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের একটি 'অনানুষ্ঠানিক গণকবরস্থল' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
"চমৎকার জায়গা"
"পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েমভার, কোমি প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় বাসিন্দারা, দমকলকর্মীরা, তদন্তকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ হাজার (বাসিন্দা), ৪০ লাখ (রাজনৈতিকভাবে দোষী সাব্যস্ত), ৬০ লাখ (জোরপূর্বক পুনর্বাসিত), ৫০ ডিগ্রি (শীতকালীন তাপমাত্রা), ৪০০ গ্রাম (দৈনিক খাদ্য), ১০ লাখ (গুলাগ বন্দি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!