📌 ময়মনসিংহের আল মামুন (২৪) ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন। একই ফ্লাইটে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। পরিবার ঋণের বোঝা ও দালালদের বিচারের দাবি তুলে ধরেছে
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের আল মামুন (২৪) সংসার চালানোর আশায় রাশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন। একই ফ্লাইটে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। পরিবার ঋণের বোঝা ও দালালদের বিচারের দাবি তুলে ধরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের আল মামুন (২৪) ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে রাশিয়ায় যাওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়; ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন
- 📌 একই ফ্লাইটে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়; আরও কেউ খুঁজে পাওয়া যায়নি
- 📌 আল মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, স্বামী যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে ভয় ও শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন
- 📌 পরিবার ঋণের বোঝা ও দালালদের বিচারের দাবি তুলে ধরেছে; সাড়ে আট লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল
- 📌 রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আল মামুন বলেছিলেন, দুই-তিন বছর কাজ করে ঋণ শোধ করবেন ও বাড়িতে ঘর করবেন
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের আল মামুন (২৪) ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। তিনি দেশে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাশিয়ায় কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। আল মামুন ময়মনসিংহের আবুল কাশেম ও রোকেয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে ছিলেন।
মহিমা আক্তার, আল মামুনের স্ত্রী জানান, স্বামীকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া দালালেরা প্রতারণা করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি যুদ্ধে আছি’ বলে স্বামী মামুন মুঠোফোনে অডিও বার্তা ও ছবি পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখতেন। সর্বশেষ ১৯ আগস্ট একটি অডিও বার্তা পাঠানোর পর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। মহিমা জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে স্বামী ভয় ও শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ঘুরছে, কখন কী ঘটে বলা যায় না। সন্তানদের দেখে রাখার কথাও বলেছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’
আল মামুনের পরিবার জানায়, বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, দুই-তিন বছর কাজ করে ঋণ শোধ করবেন এবং বাড়িতে একটি ঘর করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। পরিবার ঋণের বোঝা ও দালালদের বিচারের দাবি তুলে ধরেছে। রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে বিদেশ গেছিল নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য। সাড়ে আট লাখ টাকা ঋণ করে দিয়েছি। এখন ছেলেই নাই। নাতি-নাতনিদের কীভাবে বড় করব, জানি না।’
ঝিনাইদহের রাজন হোসেন জানান, তাঁদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ১৭ জন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রাজন বলেন, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭ মে একই ফ্লাইটে ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। তাঁদের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে সই করানো হয়।
"আমার স্বামী বলেছিল, তাঁর মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ঘুরছে, কখন কী ঘটে বলা যায় না। সন্তানদের দেখে রাখার কথাও বলেছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা, খারুয়া ইউনিয়ন, খারুয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আল মামুন (২৪), মহিমা আক্তার, রোকেয়া খাতুন, রাজন হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর (আল মামুন), ৭ মে (রাশিয়া যাত্রা), ১৭ জন (নিহত), ৩০ জন (বাংলাদেশি), ৮ লাখ টাকা (ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!